রাতের রাস্তায় ফের ভয়াবহ দুর্ঘটনা দিল্লি-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়েতে। বুধবার ভোররাতে রাজস্থানের দৌসা জেলার কোলয়া থানা এলাকার ধানাওড়ায় যাত্রিবাহী বাস সামনের চলন্ত ট্রাকে ধাক্কা মারে। ধাক্কা মারার সঙ্গে সঙ্গেই বাসে আগুন ধরে যায়। ঝলসে মারা যান বাসের আট যাত্রী। জখম হন ২২ জন।
পুলিশ জানিয়েছে, উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশ থেকে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর যাচ্ছিল বেসরকারি ওই বাস। তাতে ৩৭ জন যাত্রী ছিলেন। বুধবার ভোর তিনটে নাগাদ দুর্ঘটনা ঘটে। সেই সময়ে বেশিরভাগ যাত্রীই ঘুমোচ্ছিলেন। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাসে আগুন লেগে যায়। ধাক্কার অভিঘাতে অনেকে উপরের বার্থ থেকে নীচে পড়ে গিয়ে সাংঘাতিক আহত হন। বাসে আগুন ধরে যাওয়ায় বিপদ আরও বাড়ে। অনেক যাত্রী আগুন লাগার পরে প্রাণ বাঁচাতে বাস থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। কয়েকজন বের হতে না পেরে বাসের ভিতরেই আটকে পড়েছিলেন। তাঁরাই মারা গিয়েছেন বলে সূত্রে খবর।
খবর পেয়ে পুলিশ, দমকল ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দমকল এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে দেরিতে পৌঁছনোয় বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মতে, আগুন লাগার প্রায় এক ঘণ্টা পরে বাসে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়াও, স্থানীয়রা দাবি করেছেন যে বাসটির স্টোরেজ কম্পার্টমেন্ট সিগারেটের প্যাকেটে ভর্তি ছিল, যার জেরে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। তবে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ট্রেলারের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরেই বাসে আগুন লেগে যায়। তবে পুলিশের অনুমান, বাসচালক হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছিলেন এবং অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলছিল বাসটি। তবে অন্য কোনও কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও প্রশাসন।
এই দুর্ঘটনার জেরে কিছু সময়ের জন্য এক্সপ্রেসওয়ের ওই অংশে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে ক্ষতিগ্রস্ত যান সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।