এই সময়, শিলিগুড়ি: কলকাতার ট্রামের মতো টয় ট্রেনও কি রাস্তার মাঝখান দিয়ে যাবে! কেন হঠাৎ এরকম ভাবনা? ফি বছর গরমের মরশুমে নাকাল দশা হয় দার্জিলিঙের। পর্যটকদের গাড়ির ভিড়। তার মধ্যে টয় ট্রেনের আঁকাবাঁকা লাইন। কখনও রাস্তার একপাশ দিয়ে, কখনও আবার কোণাকুণি ভাবে রাস্তার অন্যপ্রান্তে যাচ্ছে। ফলে রাস্তায় যানবাহন দাঁড়িয়ে পড়ছে। সেই কারণে যানজটে নাকাল দার্জিলিংয়-এর রাস্তার মাঝখান দিয়ে টয় ট্রেনের লাইন পাতার সম্ভবনা খতিয়ে দেখছে রেল। খতিয়ে দেখছে কারণ, দার্জিলিংয়ের বাসিন্দাদের চাপ। নানা মহল থেকে অভিযোগ জানানোর পরে রেলের পক্ষ থেকে রাস্তার মাঝখান দিয়ে ট্রেন চালানো সম্ভব কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাস্তার মাঝখান দিয়ে টয় ট্রেন চালাতে হলে দু'পাশের রাস্তা কতটা সম্প্রসারণ করতে হবে, তাও দেখা হচ্ছে। পরিকল্পনা বাস্তব হলে টয় ট্রেনের দু'পাশ দিয়ে গাড়ি চলবে।
মঙ্গলবার শিলিগুড়ির বাগডোগরায় পর্যটন দপ্তরের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ফেরার পথে দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাদু বিস্ত বলেন, 'ট্রাম যে ভাবে চলে সে ভাবে টয় ট্রেন চালানো সম্ভব কি না সেটা বিশেষজ্ঞরা বলবেন। তার পরেও নানা ইস্যু রয়েছে। রেলের পক্ষ থেকে সবটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'
শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং প্রায় ৭০ কিলোমিটার। রোহিণী রোড ধরে শিলিগুড়ি-দার্জিলিং সড়কের দূরত্ব আরও কম। ১৮৯৭-এ যখন টয় ট্রেনের লাইন পাতা হয় তখন শিলিগুড়ি থেকে সুকনা-তিরধারিয়া-মহানদী, কার্শিয়াং হয়ে টয় ট্রেন চালানো কথা ভাবা হয়। তখন দার্জিলিং বা শিলিগুড়ির জনসংখ্যা খুব একটা বেশি ছিল না। গুটিকয়েক পর্যটক টয় ট্রেনে যাতায়াত করতেন। কেননা, টয় ট্রেনে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিংয়ে পৌঁছতে অনেকটা সময় লাগত। জিপে কিংবা বাসে অনেক কম সময়ে পৌঁছনো যেত। ২০০০-এ টয় ট্রেনকে হেরিটেজ ঘোষণার পরে পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। তবে টয় ট্রেনের 'জয় রাইড' দার্জিলিংয়ে যানজটের অন্যতম কারণ বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এখন জয় রাইড হয় দিনে অন্তত বারো বার।
এ দিন পর্যটন দপ্তরের এক অনুষ্ঠানে দার্জিলিংয়ের বাসিন্দা প্রদীপ লামা প্রস্তাব দেন, 'যানজট কমাতে জয় রাইড দিনে বড়জোর চার বার করা দরকার।' দার্জিলিংয়ের সাংসদ বলেন, 'দার্জিলিং তো কেবল পর্যটকদের জন্য নয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথাও ভাবতে হবে।' দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের ডিরেক্টর ঋঃষভ চৌধুরী অবশ্য এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।