• দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে বাবা-মা, বাইরে অপেক্ষায় দুই ভাইবোন
    এই সময় | ০১ জুলাই ২০২৬
  • পুলক বেরা, তমলুক

    সকাল সাড়ে ৮টা। তমলুক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে জরুরি বিভাগের বাইরে থিকথিক করছে ভিড়। সেই ভিড় ঠেলে এগিয়ে যেতেই চোখে পড়ল, হাপুস নয়নে কাঁদছে দুই ভাইবোন। সঙ্গের ব্যাগে রয়েছে একটি মুরগি ছানা। হাসপাতালের ভিতরে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে ওদের মা–বাবা। মুরগির ছানাটা যাতে অক্ষত থাকে তাই সেটিকেও ব্যাগে করে নিয়ে এসেছে দুই খুদে!

    মঙ্গলবার ভোর ৪টে নাগাদ হলদিয়ার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে চিরঞ্জিপুর এলাকায় পেট্রোকেমিক্যালে আগুন লাগে। সেই আগুনে দগ্ধ হয়েছেন প্রায় ২০ জন। তাঁদের হলদিয়া মহকুমা হাসপাতাল ও তমলুক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বছর দশেকের সঞ্চিতা ও তার ছোট ভাই অভির বাবা সঞ্জীব হাজরা ও মা বুল্টি হাজরাও। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন সঞ্চিতা, অভি ও তাঁদের ঠাকুমা।

    সঞ্চিতার কথায়, ‘আমরা বস্তির ঝুপড়িতে থাকি। বাবা–মা পাশের ঘরে ছিল। ভোরে প্রতিবেশীদের চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে বেরিয়ে দেখি, দাউদাউ করে জ্বলছে গোটা বাড়ি। ওই অবস্থায় ঘরের মধ্যে আটকে পড়েছিল বাবা-মা।’ স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সঞ্জীবের শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ ও বুল্টির প্রায় ৩০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। পরে তাঁদের কলকাতায় এসএসকেএম–এ স্থানান্তরিত করা হয়।

    সঞ্চিতার কথায়, ‘আমরা বস্তির ঝুপড়িতে থাকি। বাবা–মা পাশের ঘরে ছিল। ভোরে প্রতিবেশীদের চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে বেরিয়ে দেখি, দাউদাউ করে জ্বলছে গোটা বাড়ি। ওই অবস্থায় ঘরের মধ্যে আটকে পড়েছিল বাবা-মা।’ স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সঞ্জীবের শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ ও বুল্টির প্রায় ৩০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। পরে তাঁদের কলকাতায় এসএসকেএম–এ স্থানান্তরিত করা হয়।

    হাজরা পরিবারের বাড়িই নয়, পুড়ে গিয়েছে তাঁদের ঘরের আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও জামাকাপড়। তাদের ঠাকুমা কোনও কথাই বলতে পারেননি। এ দিন ওই ছোট্ট মেয়ে ও ছেলেটিকে দেখে দাঁড়িয়ে পড়েন হাসপাতালে আহতদের দেখতে আসা হলদিয়ার বিধায়ক প্রদীপ বিজলি। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন ও ঘটনায় জখমদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। সঞ্চিতা ও তার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের আশ্বস্ত করেন, চিকিৎসায় কোনও রকম ত্রুটি হবে না।

    বিধায়ক বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অবগত রয়েছেন এবং তিনি নিজেও বিষয়টির উপরে নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্যের মন্ত্রীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। কলকাতায় উন্নত চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

  • Link to this news (এই সময়)