• অতীত মনরেগা, বুধবার থেকে শুরু ১২৫ দিনের ‘ভিবি-জি রামজি’
    এই সময় | ০১ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়: আজ, বুধবার থেকে অতীত হচ্ছে ‘মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন’ বা ‘মনরেগা’। তার পরিবর্তে চালু হতে চলেছে নতুন প্রকল্প ‘বিকশিত ভারত— গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন’ (ভিবি-জি রামজি)। রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১ জুলাই ২০২৬, বুধবার থেকে রাজ্য জুড়ে এই নতুন প্রকল্প কার্যকর করা হবে। প্রকল্পের কাজে স্বচ্ছতা রাখতে কিছু প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ফেস–অথেন্টিকেটেড হাজিরা যার অন্যতম। জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অবশ্য মনে করছেন, নতুন এই প্রকল্পে রাজ্যের উপর যে আর্থিক দায়ভার রাখা হয়েছে, সেটা বাড়তি বোঝা হয়ে প্রকল্পের গতি রোধ করতে পারে।

    কেমন হবে নতুন এই প্রকল্প

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন এই প্রকল্পে এ রাজ্যের প্রায় ২ কোটি ৫৬ লক্ষ জব কার্ড হোল্ডার লাভবান হবেন। এতদিন মনরেগা প্রকল্পে যে ১০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা ছিল, তা বেড়ে এ বার ১২৫ দিনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, প্রতিটি যোগ্য গ্রামীণ পরিবার বছরে ১২৫ দিন পর্যন্ত মজুরির ভিত্তিতে কাজের নিশ্চয়তা পাবে। এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ৬০ শতাংশ অর্থ দেবে, আর রাজ্য দেবে ৪০ শতাংশ অর্থ। এই প্রকল্পে বাংলার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ৮,৫০৮ কোটি টাকা দিচ্ছে, রাজ্যকে খরচ করতে হচ্ছে ৫,৬৭২ কোটি টাকা। মজুরির টাকা সরাসরি পৌঁছে যাবে সুবিধাপ্রাপক বা বেনিফিশিয়ারিদের কাছে। তার জন্য ‘ডিবিটি-স্পর্শ’ (ডিরেক্ট বেনিফিশিয়ারি ট্রান্সফার) ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

    কার্যপদ্ধতি ও স্বচ্ছতা

    এই মিশনে স্বচ্ছতার জন্য একগুচ্ছ ডিজিটাল ব্যবস্থা আনা হয়েছে। ‘যুক্তধারা’ অ্যাপের মাধ্যমে ভৌগোলিক অবস্থান, বায়োমেট্রিক ফেস-অথেন্টিকেটেড হাজিরা এবং এমআইএস (ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম)-ভিত্তিক নজরদারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত কাজের স্বচ্ছতা যাচাইয়ে ১০০ শতাংশ কাজেরই নির্দিষ্ট হারে পরিদর্শন বাধ্যতামূলক।

    শ্রমিক স্বার্থে বিশেষ নজর

    নতুন এই প্রকল্পে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় থাকছে কঠোর নিয়ম। কাজের আবেদন জানানোর ১৫ দিনের মধ্যে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। কাজ না–পেলে মিলবে বেকার ভাতা। মাস্টার রোল বন্ধ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে মজুরি না–পৌঁছলে মিলবে দেরি হওয়ার ক্ষতিপূরণ। চাষের ভরা মরশুমে ৬০ দিনের একটি ‘নো-ওয়ার্ক পিরিয়ড’ বা বাধ্যতামূলক ছুটির সময়সীমা ঘোষণা করা হয়েছে। যাতে চাষের কাজে শ্রমিকের ঘাটতি না–দেখা দেয়।

    পরিকাঠামো ও উন্নয়নে জোর

    পরিকল্পনা তৈরির ক্ষেত্রে এই মিশনে ‘পিএম গতি শক্তি ন্যাশনাল মাস্টার প্ল্যান’-এর সঙ্গে সমন্বয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে মোট চারটি কাজে জোর দেওয়া হচ্ছে— জল সংরক্ষণ, গ্রামীণ পরিকাঠামো, জীবিকা উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা। এ রাজ্যে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রীর সভাপতিত্বে গঠিত ‘পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা পরিষদ’ প্রকল্প রূপায়ণের বিষয়টি পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণ করবে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে। মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে ‘রাজ্য স্তরের স্টিয়ারিং কমিটি’ পরিকল্পনা প্রণয়ন, বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে সমন্বয় সাধন করবে। জেলা স্তরে জেলাশাসক ও মহকুমা স্তরে এসডিও-দের মূল সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সমালোচনা কংগ্রেসের

    কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে-র মতে, মনরেগার রূপান্তর ঘটিয়ে আনা এই নতুন আইন আসলে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে জটিলতা তৈরি করবে। কংগ্রেস সভাপতি বলছেন, ‘এই প্রকল্পের মোট খরচের ৪০ শতাংশ অর্থ রাজ্যকে বহন করতেই হবে। কিন্তু এটা কঠিন হবে অনেক রাজ্যের পক্ষেই। এর ফলে রাজ্যগুলির কোষাগার দুর্বল হওয়ার জন্য অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজে প্রভাব পড়বে।’

  • Link to this news (এই সময়)