আঙুলের ছাপ নিয়ে গায়েব লক্ষ টাকা! সতর্ক না হলেই বিপদ, ঝাড়গ্রামে খেটে-খাওয়াদের সঙ্গে যা ঘটল
News18 বাংলা | ০১ জুলাই ২০২৬
: সাধারণ মানুষ কষ্ট করে উপার্জিত টাকা নিরাপদে রাখার জন্য ব্যাঙ্কের উপর ভরসা করেন। কিন্তু সেই ভরসার জায়গাতেই জালিয়াতির বড়সড় অভিযোগ উঠল ঝাড়গ্রাম জেলার মানিকপাড়ায়। সেখানকার রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাঙ্কের এক গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ বা চুরি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
গ্রামের বহু খেটে খাওয়া মানুষ ওই গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে তাঁদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় জমা রাখতেন। কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরেই টাকা জমা ও তোলা নিয়ে সেখানে নানা রকম গোলমাল চলছিল। গ্রাহকদের অভিযোগ, টাকা লেনদেনের সময় তাঁদের আঙুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) নেওয়া হলেও অ্যাকাউন্টে ঠিকঠাক টাকা জমা পড়ছে কি না, তার কোনও স্পষ্ট তথ্য বা রসিদ দেওয়া হত না। এমনকি কেউ জমানো টাকা তুলতে এলে দিনের পর দিন নানারকম অজুহাত দেখিয়ে তাঁদের ঘুরিয়ে দেওয়া হতো। পরবর্তীতে সন্দেহ হওয়ায় গ্রাহকরা নিজেদের অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে দেখেন এবং জানতে পারেন যে তাঁদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে, অথচ তাঁরা সেই টাকা পাননি।
এই জালিয়াতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। খবর পেয়ে মানিকপাড়া ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনার মূল অভিযুক্ত সীতানাথ মাহাতো ও তার এক সঙ্গীকে আটক করে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে মূল অভিযুক্ত সীতানাথ মাহাতো নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছে। সে জানিয়েছে যে, গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে সে নিজের ব্যক্তিগত দরকারে খরচ করে ফেলেছে এবং সেই টাকার কিছু অংশ অন্য অন্য কাউকেও দিয়েছে। এই জালিয়াতির শিকার ঠিক কতজন হয়েছেন এবং মোট কত টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে, তা জানতে পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি প্রতারিত গ্রাহকদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগও জমা নেওয়া হচ্ছে।