আজই অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ৩ হাজার, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা না পেলে কী করবেন?
আজ তক | ০১ জুলাই ২০২৬
১ কোটি ৩০ লক্ষ। এতজন মহিলার অ্যাকাউন্টে বুধবার ঢুকবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩ হাজার টাকা। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে রাজ্য সরকার। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে কলকাতা, হাওড়া, দুই ২৪ পরগনা জেলার একাধিক মহিলার হাতে তুলে দেওয়া হবে এই প্রকল্পের চেক। তবে কারা এই টাকা পাবেন না? যদি অ্যাকাউন্টে টাকা না ঢোকে, তাহলে কী করবেন?
অন্নপূর্ণার দ্বিতীয় কিস্তি অর্থাৎ জুন পাশের প্রাপ্য টাকা ১লা জুলাই থেকে ঢুকতে শুরু করবে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে। যে মহিলারা আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার যোজনার অধীনে ১ হাজার ৫০০ ও ১ হাজার ৭০০ টাকার সুবিধা পেয়েছেন, তাঁরা তো পাবেনই, নতুন করে আবেনকারীরাও ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। তবে অবশ্যই তার জন্য পূরণ করতে হবে নির্দিষ্ট শর্তগুলি।
সুবিধাভোগী মহিলাদের আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি সরকারি তহবিল থেকে ফান্ড ট্রান্সফার করা হবে। অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গের ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলারা উপকৃত হবেন।
কারা এই টাক পাবেন না?
> আয়কর দেন এমন মহিলারা এই সুবিধা পাবেন না।
> যেসব মহিলা কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার, পঞ্চায়েত, পৌরসভা, স্থানীয় সংস্থা, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চাকরি করেন, তাঁরা এই সুবিধা পাবেন না।
> সরকারি পেনশনভোগী মহিলারাও এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য হবেন না।
> যেসব মহিলার নাম যোগ্যতার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁরাও কোনও সুবিধা পাবেন না।
> কোনও মহিলা যদি সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে আপিল করে থাকেন, তাহলে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পের টাকা মিলবে।
বুধবার টাকা না ঢুকলে কী করবেন?
টাকা না ঢুকলে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আধার লিঙ্ক করা আছে কিনা তা ব্যাঙ্কে গিয়ে কনফার্ম করতে হবে। এক্ষেত্রে আবেদনটি রিজেক্ট হলে সংশোধনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। রাজ্য সরকারের Social Security Portal-এ গিয়ে স্ট্যাটাস 'সাবমিটেড' দেখালে বুঝতে হবে আবেদন জমা হয়েছে কিন্তু ভেরিফিকেশন চলছে Approved বা Processed দেখালে বোঝা যাবে টাকা ঢুকবে কিছুদিনের মধ্যেই। রিবারের কেউ আয়কর দিলে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। সেই কারণেও রিজেক্ট হতে পারে আবেদন। আধার ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লিঙ্কিংয়ে সমস্যা থাকলে শেষ মুহূর্তে DBT ব্যর্থ হতে পারে। তাই আবেদনকারীদের আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সক্রিয় আছে কি না তা আগে যাচাই করে নেওয়া উচিত। সমস্যা থাকলে ব্যাঙ্কে গিয়ে তা ঠিক করে নিতে হবে। যাচাই সম্পূর্ণ হওয়া আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে ৩,০০০ টাকা করে জমা করা হবে। তাই আবেদন করার পর নিয়মিত স্টেটাস চেক করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ক্ষেত্রে সরকারের পরবর্তী নির্দেশিকা অনুযায়ী ত্রুটি সংশোধন করে পুনরায় আবেদন করতেই পারেন।
কী বলছেন নারী শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী?
দফতরের মন্ত্রী মালতী রাভা রায় bangla.aajtak.in-কে বলেন, 'যোগ্যতার মাপকাঠি পূরণ করলে অবশ্যই টাকা পাবেন। যাঁদের সমস্ত নথিপত্র ঠিক রয়েছে, যাঁরা সরকারি স্থায়ী চাকরি করেন না এবং ভোটার কার্ড রয়েছে তাঁদের বঞ্চিত করার প্রশ্ন ওঠে না। কোনও বৈধ নথিযুক্ত মা-বোন এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না।' যাঁরা এখনও আবেদন করেননি তাঁদের জন্য দফতরের মন্ত্রী জানিয়েছেন, রেজিস্টেশন প্রক্রিয়া এখনও খোলা রয়েছে এবং নতুন আবেদনকারীরা চাইলে এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন নিশ্চিন্তে চালিয়ে যেতে পারেন।