প্রাক্তন একজনের সম্পর্কে অন্য এক প্রাক্তনের প্রশংসাসূচক মন্তব্য। তাকে হাতিয়ার করেই পূর্বসূরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধলেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল জমানায় বেহাল স্বাস্থ্য পরিষেবার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য, ‘এখন যেখানেই হাত দিচ্ছি, শুধু ধ্বংসলীলা দেখতে পাচ্ছি।’
এই মন্তব্যের সূত্রেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায় সম্পর্কে আর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর একটি প্রশংসাসূচক মন্তব্যও স্মরণ করিয়েছেন শুভেন্দু। বুধবার সল্টলেকের ময়ূখ ভবনে জাতীয় চিকিৎসা দিবস উদযাপনের সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজ বিধানচন্দ্র রায়কে নিয়ে বলা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতিবাবুর একটা কথা মনে পড়ছে। সেই কথাটা আরও বেশি করে মনে পড়ছে, কারণ আমি ঠিক তার উল্টো পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি এখন। জ্যোতিবাবু মুখ্যমন্ত্রীর পদে দায়িত্ব নেওয়ার পরে বলেছিলেন, আমি যেখানে যা কিছু শুরু করতে যাচ্ছি, দেখি বিধানচন্দ্র রায় শুরু করে দিয়ে গিয়েছিলেন। আর আজ আমার মনে হচ্ছে, আমি যেখানেই হাত দিচ্ছি, ধ্বংসলীলা দেখতে পাচ্ছি। এই দুই ভিন্ন মতের মধ্যে দিয়েই এগোতে হবে। এখান থেকে বের করে আনতে হবে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে।’
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, গত ১৫ বছরে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতিতে বড়সড় গাফিলতি থেকে গিয়েছে। সেই কারণেই বহু মানুষকে এখন বাইরের রাজ্যে চিকিৎসা করাতে যেতে হয়। তিনি বলেন, ‘ভেলোর, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদে সর্বত্র শুধু বাঙালি, গরিব মানুষকে দেখতে পাই। কেন, এ রাজ্যে চিকিৎসা দেওয়া যায় না? এত হস্তক্ষেপ, এত দমনপীড়ন, চিকিৎসাব্যবস্থা এত অবহেলিত! এটা কি কাম্য ছিল? কী করে রেখেছেন হাসপাতালগুলোর অবস্থা?’ শুভেন্দু জানান, রাজ্যে পালাবদলে ভয়-ভীতি দূর হয়েছে। নতুন সরকারের কাছে অগ্রাধিকার হলো চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘ভবিষ্যতে চিকিৎসা ব্যবস্থায় সংকীর্ণ রাজনীতি থাকবে না। এখানে আমরা-ওরা থাকবে না। সমস্ত ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে।’
এ দিনের সরকারি কর্মসূচিতে বিধানচন্দ্র রায়ের মূর্তিতে মাল্যদান করেছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘ওঁর সম্পর্কে যদি একটু খোঁজ নেন, অনেক কিছু জানতে পারবেন। বিধানচন্দ্র রায়ের কর্মকুশলতা, কাজের পদ্ধতি, একাগ্রতা, দায়বদ্ধতা, অর্জুনের মতো লক্ষ্য স্থির রেখে ব্যক্তিস্বার্থকে উপেক্ষা করে চলার ক্ষমতা আমাদের সকলের জানা উচিত। তার কিছুটা গ্রহণ করলেই এ রাজ্যের এবং দেশের মঙ্গল হতে পারে বলে আমি মনে করি।’ শুভেন্দু জানান, তিনি ২০০৬ সাল থেকে বিধায়ক। প্রথম বার বিধায়ক হওয়ার পরেই বিধানসভার লাইব্রেরিতে গিয়ে বিধানচন্দ্র রায়ের একাধিক ভাষণ পড়ে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, ‘আমি নিজে তা গ্রহণ করার চেষ্টা করেছি ২০ বছর আগে। ওঁর বক্তৃতার অনেক লাইন আমার মুখস্থ।’