রথে চাপার আগেই রীতিমত টিকিট কেটে লোকাল ট্রেনে চাপলেন স্বয়ং জগন্নাথ দেব! আর পাঁচ জন সাধারণ যাত্রীদের মতো তিনিও বসলেন সিটে! কালী, দুর্গা, সরস্বতী, জগদ্ধাত্রী তো আছেই, এবার জগন্নাথও! শান্তিপুর থেকে লোকাল ট্রেনে যাদবপুরে ভক্তের বাড়িতে দিকে রওনা দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, শান্তিপুরের প্রতিমাশিল্পের সুনাম বহুদিনের। কালী, দুর্গা, সরস্বতী কিংবা জগদ্ধাত্রীর প্রতিমা রাজ্যের নানা প্রান্তে পৌঁছে যায়।
এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল ভগবান জগন্নাথও। শান্তিপুরের শ্যামবাজারের প্রতিমাশিল্পী সৌরাজ বিশ্বাসের কারখানায় তৈরি সুসজ্জিত জগন্নাথদেবের প্রতিমা রওনা দিয়েছে দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুরে এক ভক্তের বাড়ির উদ্দেশে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়, অন্য প্রতিমার মতো গাড়িতে নয়, তিনি কারখানা থেকে প্রথমে ভ্যানে চেপে গেলেন শান্তিপুর স্টেশনে। তারপর সাধারণ মানুষের সঙ্গেই লোকাল ট্রেনে যাত্রা করলেন জগন্নাথদেব।
ট্রেনে জগন্নাথদেব সওয়ার হতেই সৃষ্টি হয় অপরূপ দৃশ্যের। সহযাত্রীরা কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন জগন্নাথদেবের দিকে। কেউ আবার মোবাইলে ছবি তুলতে ব্যস্ত ছিলেন। কেউ করছিলেন প্রণাম। অনেকেই জয় জগন্নাথ ধ্বনি দিয়েছেন। ট্রেনের চালক থেকে শুরু করে নিরাপত্তা কর্মী এবং অনেক কর্মকর্তাই একবার দর্শন করে গিয়েছেন জগন্নাথ দেবের। পুরো ঘটনা যেন হয়ে উঠেছিল এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। প্রতিমাশিল্পী সৌরাজ বিশ্বাসের কারখানার এক শিল্পী জানান, প্রতিবছরই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাঁদের কাছে প্রতিমার বরাত আসে।
এবার যাদবপুরের এক ভক্তের আবেদনে রথযাত্রা উপলক্ষে বিশেষভাবে এই জগন্নাথদেবের প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। এর আগে একটি জগন্নাথ প্রতিমা অর্ডার পাওয়া গেলেও তা আকৃতিতে অনেকটাই ছোট ছিল। এবারে প্রায় চার ফুট উচ্চতার মূর্তি তৈরি করা হয়েছে। যে ভক্ত এই অর্ডার দিয়েছিলেন, তিনি শান্তিপুরের মাটির কাজ সম্পর্কে অবহিত হয়েছিলেন সামাজিক মাধ্যমে। তার এক পরিচিতর মাধ্যমে সৌরজের কাছে অর্ডার দেওয়া। এবং তারপরেই সেই জগন্নাথ দেব তৈরির পর যাদবপুরে পাড়ি দিলেন ট্রেনে করেই।