অযোধ্যার রামমন্দিরে অনুদানের নগদ টাকা, সোনা-রূপো-সহ মূল্যবান রত্ন সামগ্রী চুরির অভিযোগের তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই ঘটনায় ধৃত ব্যক্তিদের জেরায় উঠে এসেছে কোন পথে ও কী ভাবে সরানো হয়েছে রামমন্দিরের অনুদানের মূল্যবান সব জিনিস। এও অভিযোগ উঠেছে, মন্দিরের চাকরিতে নিয়োগেও চলত দুর্নীতি। কাজ পেতে দিতে হতো কমিশন। এই ঘটনায় আতসকাচের তলায় ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর প্রাক্তন সদস্য অনিল মিশ্রর ভূমিকা।
তদন্তকারীদের রিপোর্টে উঠে এসেছে কী ভাবে দীর্ঘ দিন ধরে অনুদান গোনা ও সংরক্ষণের ব্যবস্থার ফাঁকফোকর ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা ও সোনা-রুপো হাতানো হয়েছে। রামমন্দিরে কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই সামনে আসে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগও।
সর্বভারতীয় এক সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, মঙ্গলবার পুলিশ অভিযুক্ত অবিনাশ মিশ্রকে জেরার সময়ে একাধিক বার অনিল মিশ্রের নাম উঠে আসে। অভিযুক্তদের দাবি, অনুদান কেলেঙ্কারির অন্যতম মাথা তিনি। SIT-এর রিপোর্টের পরে আট জনকে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার করা হয়। তার পরেই ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দেন অনিল মিশ্র।
অভিযুক্তদের জেরায় বারবার উঠে এসেছে প্রাক্তন এই ট্রাস্ট কর্তার নাম। তাঁদের বয়ান অনুযায়ী, রাম মন্দিরের অধিকাংশ কর্মীকে অনিল মিশ্রের সুপারিশে নিয়োগ করা হয়েছিল। সূত্রের দাবি, মন্দিরের অন্তত ১২৫ জন কর্মী মিশ্রের সুপারিশে চাকরি পেয়েছেন। যাঁদের মধ্যে তাঁর কয়েকজন আত্মীয়ও রয়েছেন। ধৃতদের দাবি, চাকরির জন্য তাঁদের থেকে কমিশন পেতেন অনিল মিত্র। নিয়োগকে প্রভাবিত করার ও কমিশন নেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে SIT। সূত্রের খবর, সিট যে তদন্তের রিপোর্ট জমা করবে, তাতে এই টাকা লেনদেনের উল্লেখ থাকতে পারে।
তদন্তকারীদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে সিসিটিভির অবস্থান ও নজরদারির সীমাবদ্ধতার ফাঁকফোকরের ফায়দা তুলে সরানো হয়েছে অনুদানের নগদ টাকা ও মূল্যবান গয়না। সাম্প্রতিক তদন্তে একটি কালো ব্যাগের তত্ত্ব উঠে এসেছে। তাতেই পাচার হতো রামমন্দিরের অনুদান। প্রতি বার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে আড়াল করতেন এক ব্যক্তি। তাঁকে চিহ্নিত করারও চেষ্টা করছে SIT।
সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, তদন্তকারীরা এখন কমিশনভিত্তিক অর্থ বণ্টন বা আত্মসাৎ হওয়া টাকা ভাগাভাগির অভিযোগও যাচাই করছেন। পাশাপাশি ডিজিটাল প্রমাণ নষ্টের চেষ্টার অভিযোগও উঠে এসেছে—যার মধ্যে মোবাইল ফোন ফরম্যাট করা, চ্যাট মুছে ফেলা এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এই মামলায় ইতিমধ্যেই আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ছয়জন মন্দিরে অনুদান গণনার দায়িত্বে যুক্ত কর্মী ছিলেন। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতেই প্রথম সন্দেহের সূত্র মেলে। অনুদানের কয়েক কোটি টাকা হাতানোর অভিযোগ সামনে এসেছে, যদিও চূড়ান্ত অডিট ও তদন্ত এখনও শেষ হয়নি।
এদিকে প্রাক্তন ট্রাস্ট কর্তা চম্পত রাই এবং প্রাক্তন ট্রাস্টি অনিল মিশ্রকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্তকারী দল। সূত্রের দাবি, অনুদান সংগ্রহ, গণনা, নিরাপদে সংরক্ষণ এবং নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁদের কাছে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। চম্পত রাই অনুদান চুরির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পরই তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।