• শুধু রেজিস্ট্রি নয়, সাত পাকে বাঁধা পড়তে হবে, হিন্দু বিবাহ নিয়ে রায় আদালতের
    এই সময় | ০১ জুলাই ২০২৬
  • অগ্নিদেবকে সাক্ষী করে বর ও বধূর সাত পাকে ঘোরার রীতি রয়েছে হিন্দুদের বিবাহে। আধুনিক যুগে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন অফিসে যুগল ও তাঁদের পরিবার বা ঘনিষ্ঠদের সইয়ে বিয়ে হয়ে যায়। তবে সম্প্রতি একটি মামলায় গুজরাট হাইকোর্টের নির্দেশ, শুধু নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) বিয়ের আইনগত বৈধতার জন্য যথেষ্ট নয়। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী আচার-অনুষ্ঠান, বিশেষ করে সাত পাকে বাঁধার মতো অনুষ্ঠানের প্রয়োজন রয়েছে।

    আদালত ওই নির্দেশে জানিয়েছে, হিন্দু বিবাহ কেবল একটি সামাজিক অনুষ্ঠান নয়। এটি একটি ধর্মীয় সংস্কার এবং আইনগত ভাবে স্বীকৃত সম্পর্ক। তাই প্রথাগত রীতি মেনে বিবাহ সম্পন্ন না হলে শুধু নিবন্ধনের ভিত্তিতে সেই বিবাহকে ‘বৈধ’ বলা যায় না।

    ব্রিটেন নিবাসী এক ব্যক্তি বিবাহ সংক্রান্ত বিষয়ে গুজরাট হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। ওই ব্যক্তির অভিযোগ, সম্মতি ছাড়াই প্রতারণার মাধ্যমে বিবাহের নথিতে তাঁর সই নেওয়া হয়েছিল। তিনি আদালতে জানান, অভিযুক্ত মহিলার সঙ্গে তাঁর কোনও ধর্মীয় রীতি মেনে বিয়ে হয়নি এবং তাঁরা কখনও স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে বসবাসও করেননি। ওই মহিলাও স্বীকার করেন, ধর্মীয় রীতি মেনে তাঁদের বিয়ে হয়নি।

    হিন্দু বিবাহ আইনের ৭ নম্বর ধারার উল্লেখ করে আদালত জানিয়েছে, বিবাহ কেবল উৎসব, ভোজ বা আনুষ্ঠানিক উদযাপনের বিষয় নয়। দুই ব্যক্তির মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও দায়িত্বের ভিত্তিতে আজীবন সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান। তাই বিবাহের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে গুরুত্ব ও পবিত্রতা সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পরামর্শও দিয়েছে আদালত।

  • Link to this news (এই সময়)