পুরোনো মামলায় স্বামী গ্রেপ্তার হওয়ার দিনে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বুধবার দুপুর ১২টার মধ্যে তাঁকে থানায় হাজিরা দিতেও বলা হয়েছিল। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশের তলবের সাড়া দিলেন না তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ অপরূপা পোদ্দার।
২০২৩–এ রামনবমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল রিষড়া। পরের দিনই রিষড়ায় যান তৎকালীন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। ঘটনায় পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করে। কিন্তু পরে তাঁরা জামিন পেয়ে যান। পরবর্তীকালে এই ঘটনার তদন্তভার হাতে নেয় এনআইএ। গোষ্ঠীসংঘর্ষে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে মঙ্গলবার তৃণমূলের কাউন্সিলার তথা প্রাক্তন উপপুরপ্রধান সাকির আলিকে গ্রেপ্তার করে এনআইএ। মঙ্গলবার তাঁকে বাড়ি থেকে বার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়াতে দেখাতে গিয়েছিল তাঁর স্ত্রী অপরূপাকে। সেই সময়ে প্রাক্তন সাংসদকে এক পুলিশকর্মীর উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘হু আর ইউ (আপনি কে)? আমার পুলিশি নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই।’ হালকা ধাক্কাধাক্কিও হয় সেখানে। তার অব্যবহিত পরেই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অপরূপার বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধাদানের মামলা রুজু হয়। বুধবার দুপুর ১২টায় শ্রীরামপুর থানায় তলবও করা হয় তাঁকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, এ দিন দুপুর ১২টার আগেই শ্রীরামপুর থানায় হাজির হন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরোলেও হাজিরা দেননি অপরূপা। অন্য দিকে, স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ রিষড়ার বাড়ি থেকে বেরোতে দেখা গিয়েছে অপরূপাকে। ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, কলকাতায় গিয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ। তিনি আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। তার পরে দুপুরের দিকে শ্রীরামপুর থানায় যেতে পারেন তিনি।
মঙ্গলবার সাকিরের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে স্থানীয়েরা বিক্ষোভ দেখান। অপরূপার দাবি, ‘২০২৩ সালের মামলা। আমার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হলো ২০২৬ সালে। বিচারাধীন একটা মামলা। কী আর বলব! তার পর থেকে এতগুলো রামনবমী শান্তিপূর্ণ ভাবে হয়ে গেল! আমরা কারও কাছে মাথা নত করিনি। করবও না। ’