আজকাল ওয়েবডেস্কঃ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুমায়ুন কবীরের মতো লোকজনকে শিক্ষা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন আগেই। তার ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার হুমায়ুনের শক্তিপুরের বাড়িতে উপস্থিত হন মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং শক্তিপুর থানার পুলিশ। দু'টো পৃথক স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় নওদার বিধায়ককে তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে হাজির দেওয়ার নোটিস দেওয়া হয়েছে। সেই প্রসঙ্গেই বুধবার কড়া জবাব দিলেন হুমায়ুন।
শক্তিপুর থানায় দায়ের হওয়া স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় হুমায়ুন কবীরকে ৩ জুন বেলা সাড়ে ১১ টার সময় এবং রেজিনগর থানায় দায়ের হওয়া সুয়ো মোটো পুলিশের মামলায় ৪ জুন তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে দু'টি মামলায় তদন্তকারী আধিকারিকদের সামনে নওদার 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র বিধায়ক হাজিরা দেবেন কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়।
বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দু'টি মামলাতেই তিনি আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করবেন না। হুমায়ুন বলেন, "শক্তিপুর থানার তরফ থেকে আমাকে নোটিস দিয়ে আগামী ৩ জুন হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তবে বহু বছর ধরে প্রত্যেক শুক্রবার আমি জুম্মার নামাজ পড়ি। তাই সেদিন আমার পক্ষে শক্তিপুর থানায় হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয়।"
হুমায়ুন আরও বলেন,"যদি আমি মুর্শিদাবাদে থাকি তাহলে ৪ জুন রেজিনগর থানায় হাজিরা দেব। পুলিশ যদি মনে করে আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে। হুমায়ুন কবীর এসব নিয়ে কোনও পরোয়া করে না।" এরপরই হুঙ্কারের সুরে তিনি বলেন,"হুমায়ুন কবীর কোনও অন্যায় করে না এবং অন্যায় বরদাস্তও করেনা। কেউ হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে 'পাঙ্গা' নিতে আসলে নিতে পারে। আমি প্রস্তুত আছি।" নওদার বিধায়ক কারও নাম না করে বলেন,"এরপর বেশি বাড়াবাড়ি করলে মুর্শিদাবাদ জেলায় 'জেল চলো, জেল ভরো' আন্দোলন করব। এক লক্ষ লোক নিয়ে বহরমপুরে যাব। প্রশাসনের কত ক্ষমতা আছে দেখব। ক'টা জেলা আছে দেখব। আমি যাব সামনে, আমার সঙ্গে লোক আছে কিনা সেদিন দেখিয়ে দেব।"
প্রসঙ্গত রেজিনগর এবং নওদা থানায় দায়ের হওয়া পুলিশের দু'টি স্বতঃপ্রণোদিত পৃথক মামলায় মঙ্গলবার হুমায়ুনের বাড়িতে পুলিশ নোটিশ পৌঁছে দেয়। কিন্তু সেই সময়ে হুমায়ুন কবীর বাড়িতে না থাকায় পুলিশ তাঁর স্ত্রী মিরা বিবিকে নোটিশ ধরিয়ে আসে।
এছাড়াও ইতিমধ্যেই রেজিনগর এবং শক্তিপুর থানার পুলিশ হুমায়ুন কবীরের দু'টি পৃথক রাজনৈতিক জনসভার তিন উদ্যোক্তাকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগ, ওই দু'টি সভা থেকে হুমায়ুন ঘৃণা ভাষণ দিয়েছিলেন। হুমায়ুন ঘনিষ্ট ওই তিন নেতাকে মঙ্গলবার বহরমপুর আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তিনজনেরই পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করেছেন।
মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই হুমায়ুন কবীরের মন্তব্য তাঁরা সংবাদমাধ্যমে দেখেছেন। হুমায়ুন কবীর যদি পুলিশের নোটিশ পাওয়ার পরও তদন্তকারী আধিকারিকের সামনে হাজিরা না দেন, তাহলে গোটা বিষয়টি পুলিশ কেস ডাইরিতে লিপিবদ্ধ করবে। পরবর্তীকালে প্রয়োজনে কোর্টেও জানাবে। ওই আধিকারিক জানান, পুলিশের নোটিশ পেয়ে হাজিরা না দেওয়ার অর্থ দাঁড়াবে বিধায়ক তদন্তে সহযোগিতা করছেন না বলেই ধরে নেওয়া হবে। বিধায়ক হুমায়ুন কবীর যদি নির্দিষ্ট দিনে হাজিরা না দিতে পারার কারণ লিখিতভাবে তদন্তকারী আধিকারিককে জানান। অন্য একটি দিন হাজিরার জন্য বরাদ্দ করতে অনুরোধ করেন। সে ক্ষেত্রে তদন্তকারী আধিকারিক বিষয়টি বিবেচনা করে দেখবেন।