'কমিশনকে ধন্যবাদ', দলের দখল নিতে দিল্লির পথে ঋতব্রত!
আজকাল | ০১ জুলাই ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: শহরের পাঁচতারা হোটেলে, গোপন বৈঠক করে টিম ঋতব্রত যেদিন নিজেদের সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করে, ঠিক তার পরেই কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে আনা হয়, দলের সম্পূর্ণ ওয়ার্কিং কমিটির তালিকা। জানানো হয়, সেখানে চেয়ার পার্সন হিসেবে রয়েছে মমতা ব্যানার্জিরই নাম। অন্যদিকে মদন মিত্র বলেছিলেন, তৃণমূলের সংবিধানে, সর্বসময়ের জন্য চেয়ারপার্সন হিসেবে নাম আছে মমতা ব্যানার্জিরই।
অন্যদিকে, ঋতব্রত শিবিরের দাবি, সংখ্যায় তাঁরা গরিষ্ঠ। প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস তাঁরাই। নাম-প্রতীক যে তাঁদেরই এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন। সূত্রের খবর ফান্ড-সহ দলের দখলের দাবি জানাতে এবার কালীঘাট তৃণমূলকে কালীঘাটে ফেলে, দিল্লি যাচ্ছে টিম ঋতব্রত। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায়, নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ শুনবে তাঁদের কথা।
দিল্লি উড়ে যাওয়ার আগে, আজকাল ডট ইন-কে ঋতব্রত ব্যানার্জি জানান, '২২ তারিখের স্পেশাল সেশনের পর, আমরা কমিশনকে চিঠি দিয়েছিলাম আমাদের দাবি জানিয়ে, চিঠি দিয়েছিলাম রাজ্য নির্বাচন কমিশনকেও। নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ। তারা, কমিশনের ফুল বেঞ্চ আগামিকাল, বৃহস্পতিবার, বেলা ১২টায় আমাদের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেখা করার সময় দিয়েছে। আমরা দিল্লি রওনা দিচ্ছি।' উল্লেখ্য, এর আগে, ২৩ জুন, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে গিয়েছিল টিম ঋতব্রত। সেখানে জানানো হয়েছিল, ২২ তারিখের বৈঠকের কার্যবিবরণি, ওই বৈঠকেই কোন ৩০ জনের নাম স্থির করা হয়েছে কর্মসমিতির সদস্য হিসেবে, সেসব তথ্য দেওয়া হয়।
এর আগে, ২২ জুন, সোম বিকেলে, জোড়াফুল প্রতীককে সামনে রেখে টিম ঋতব্রত যে বৈঠক করে, সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান করা হয়েছে অরূপ রায়কে। নতুন ওয়ার্কিং কমিটিও গঠন করা হয়। সেখানে সভাপতি করা হয়েছে অরূপ রায়কে। জানা গিয়েছে, নতুন কমিটি গঠন করা হয় ৩০ জনকে নিয়ে। সাধারণ সম্পাদক পদে- জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সাবিনা ইয়াসমিন। ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন-ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ। আখরুজ্জামান খান হন কোষাধ্যক্ষ।
ওই বৈঠক প্রকাশ্যে আসার পর, কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, 'এটি একটি হাস্যকর নাটক। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত এক ব্যক্তি একটি বিশেষ অধিবেশন করছেন। বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন এবং আমাদের বিশ্বাস, ন্যায়বিচারই হবে। এ ধরনের হাস্যকর আচরণকে আমরা কোনো গুরুত্ব দিই না। তৃণমূল মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়; বাকি সবকিছুই সার্কাস।'