দুর্যোগের কাউন্টডাউন শুরু, ৩ জেলায় অ্যালার্ট, ১০ জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
আজ তক | ০১ জুলাই ২০২৬
বুধবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। মৌসুমি অক্ষরেখা বর্তমানে রাজস্থান থেকে বিহার পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ থেকে মণিপুর পর্যন্ত একটি পূর্ব-পশ্চিম অক্ষরেখা উত্তরবঙ্গের ওপর দিয়ে গিয়েছে। এই দুই আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে রাজ্যে। ফলে আগামী কয়েক দিনে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়বে বলে পূর্বাভাস।
বুধবার ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়াতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দিনের শুরুতে আকাশ মেঘলা থাকবে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় অস্বস্তি বজায় থাকলেও বিকেলের পর থেকে একাধিক জেলায় বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারও দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই দু'দিনও হলুদ সতর্কতা বহাল থাকবে। তবে সপ্তাহান্তে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। কলকাতাসহ বাকি জেলাগুলিতেও বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
রবিবার দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার দাপট আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। কলকাতাসহ একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিম্নাঞ্চলে জল জমা, যান চলাচলে বিঘ্ন এবং স্থানীয় জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, বুধবার উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকবে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কমতে পারে এবং সপ্তাহান্তে সেখানে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।
আবহাওয়া দফতরের মতে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় ধস নেমেছে, একাধিক নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়েছে এবং কয়েকটি নদী এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। তাই নতুন করে বৃষ্টি বাড়লে পরিস্থিতির দিকে বিশেষ নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, যেখানে বৃষ্টি কম হবে, সেখানে আর্দ্রতাজনিত ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি বজায় থাকবে।