• আরবানাতে থাকতে গেলে কী যোগ্যতা লাগে? রচনার মতো ফ্ল্যাট কিনতে খরচ কত?
    আজ তক | ০১ জুলাই ২০২৬
  • 'আরবানাতে থাকতে গেলে যোগ্যতা লাগে...।' ফেসবুক জুড়ে, লোকের মুখে মুখে শুধুই ঘুরছে এই লাইন। গ্র্যাজুয়েশনে কত নম্বর? মাধ্যমিকে ক'টা লেটার? সকলেরই প্রশ্ন, কী এমন যোগ্যতা লাগে আরবানাতে থাকতে? 

    কেসটা কী? 
    ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পর মাস পেরোয়নি, তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস দলটি। একে একে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়েছেন, তাঁর আশপাশে একটা সময়ে গিজগিজ করা তারকারা। এই তালিকায় অন্যতম রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। পর্দার 'দিদি নম্বর ওয়ান' রাজনীতির ময়দানের 'দিদি'-র ডাকে হুগলি থেকে প্রথমবার ভোটে দাঁড়িয়েই বাজিমাত করেছিলেন চব্বিশের লোকসভায়। তবে দল হারতেই তিনিও এখন শিবির বদল করে ফেলেছেন। NCPI দলে যোগ দিয়েছে সাংসদ। তারপর থেকেই প্রাক্তন দলের সতীর্থদের সঙ্গে দিনভর চলছে 'তু তু ম্যায় ম্যায়'। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (যিনি বর্তমানে মমতাপন্থী) রচনাকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেস ভ্যালু ছাড়া রচনাকে কেউ চিনতেও পারতেন না বলে কটাক্ষ করেছেন। জবাব দিতে ছাড়েননি টেলিভিশনের 'দিদি নম্বর ওয়ান'। 

    কী মন্তব্য করেন রচনা?
    সম্প্রতি একটি টেলিভিশনে চ্যানেলে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে বেশ কিছু মন্তব্য করেন। যার মধ্যে একটি অংশ ভাইরাল হয়। সেখানে রচনাকে বলতে শোনা যায়, 'বাংলা থেকে আমিই একমাত্র অভিনেত্রী যিনি মিস্টার বচ্চনের সঙ্গে কাজ করেছি, মিস্টার ব্যানার্জি আপনি বোধহ. জানতেন না। ৭টা ভাষায় ১৫০ ছবি করেছি, আপনি বোধহয় জানতেন না।' এরপরই অভিনেত্রী সাংসদের সংযোজন, 'আরবানাতে থাকতে গেলে যোগ্যতা লাগে, সেই যোগ্যতা রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় অর্জন করেছে, কিন্তু TMC করে নয়।' 

    বলার সঙ্গে সঙ্গেই রচনার এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়। হু হু করে শেয়ার হতে শুরু করে 'আরাবানাতে থাকতে গেলে যোগ্যতা লাগে' লাইনটি। মিম তৈরি করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন নেটিজেনরাও। বাদ পড়েননি রচনারই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সতীর্থরা। অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী লেখেন, 'শুনলাম কে নাকি বলেছে, জয়েন্ট এন্ট্রাস দিয়ে পাশ করলে তবেই আরবানায় চান্স পাওযা যায়!'

    রচনার করা এই মন্তব্য কার্যত হাসির খোরাকে পরিণত হয় রাতারাতি। নেটপাড়ায় তীব্র ট্রোলিংয়ের শিকার হন তারকা সাংসদ। 

    আরবানার ফ্ল্যাটের দাম কত?
    আরবানা কমপ্লেক্স দক্ষিণ কলকাতার আনন্দপুরে। নিঃসন্দেহে বিলাসবহুল এই কমপ্লেক্সের ফ্ল্যাটগুলি। দামও আকাশছোঁয়া। এখানে মোট ৭টি টাওয়ার রয়েছে। আরও ৩টি নতুন করে তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে ২ ও ৩ নম্বর টাওয়ারের ফ্ল্যাটগুলি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির। অধিকাংশই ৫ হাজার স্কোয়্যার ফিটের। দাম ১৩-১৫ কোটি টাকা। এই প্রিমিয়াম ফ্ল্য়াট সম্বলিত টাওয়ারেই থাকেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে রচনা নন, এই দুই টাওয়ারের মধ্যেই ফ্ল্যাট রয়েছে দেব, শুভশ্রী ও রাজ, শ্রাবন্তী, অরিন্দম শীল, পায়েল সরকার, বন্ধন ব্যাঙ্কের প্রাক্তন চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর ঘোষ সহ অনেক সেলেবেরই। 

    ফলে নেটিজেনরা বলছেন, অবশ্যই সম্ভ্রান্ত পরিবার কিংবা পরিশ্রম করে নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা ব্যক্তিরা নিজ দমে আরবানার মতো বিলাসবহুল কমপ্লেক্সে ফ্যাট কিনতেই পারেন। তবে অযথা দম্ভ করা অনুচিত। আবার তৃণমূলের সাংসদ হয়েও চুরি-দুর্নীতি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না কেন? রচনাকে এই প্রশ্নও সরাসরি করেছেন নেটিজেনরা। 

     
  • Link to this news (আজ তক)