• দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ ঋতব্রত শিবির, বৃহস্পতিবার ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০১ জুলাই ২০২৬
  • ভোটে হেরে একেবারে ল্যাজেগোবরে অবস্থা তৃণমূল কংগ্রেসের। দল ভেঙে খান খান।  দুই শিবিরে বিভক্ত জোড়াফুল শিবির। একটি ‘কালীঘাট তৃণমূল’ নামে তো অন্যটি ‘বিদ্রোহী শিবির’-এর তৃণমূল বলে পরিচিতি পাচ্ছে। দলের ক্ষমতা কাদের হাতে থাকবে তা নিয়ে চলছে দড়ি টানাটানি। নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে প্রমাণ করতে মরিয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

    তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন ও দলীয় প্রতীক কাদের দখলে থাকবে তা ফয়সলা করতে এবার দ্বারস্থ হতে হচ্ছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনের দোরগোড়ায়। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে বসবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের একটি ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল। বৈঠকে তাঁরা নিজেদেরই আসল তৃণমূল হিসেবে দাবি জানিয়ে দলের প্রতীক ও সাংগঠনিক স্বীকৃতির বিষয়ে কমিশনের সামনে দাবি জানাবেন বলে সূত্রের খবর।

    এর আগে কলকাতায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে ঋতব্রত শিবিরের পাঁচ বিধায়ক এবং তাঁদের গঠিত কমিটির সদস্যরা একটি বিশেষ অধিবেশনের নধি জমা দেন। সেই নথিতে দাবি করা হয়েছে, দলীয় কর্মসমিতি নতুন করে গঠন করা হয়েছে এবং বর্তমান সংগঠনের নেতৃত্ব তাঁদের হাতেই রয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদনও জানানো হয়েছিল। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবারের বৈঠকের সময় নির্ধারিত হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।

    সূত্রে দাবি, সম্প্রতি কলকাতার একটি পাঁচতার হোটেলে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে অরূপ রায়কে বেছে নেওয়া হয়। পাশাপাশি ৩০ সদস্যের একটি নতুন কার্যকরী কমিটিও গঠন করা হয়েছে। ওই বৈঠকের কার্যবিবরণী বা মিনিটস নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ঋতব্রত শিবিরের।

    ঋতব্রতপন্থীদের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন আগের কর্মসমিতির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই সেই কমিটিরর সাংগঠনিক বৈধতা আর নেই। তাঁদের বক্তব্য, শুধু পরিষদীয় দল নয়, সংগঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনও তাঁদের পক্ষেই রয়েছে। সেই কারণেই দলীয় প্রতীক ও তহবিলের উপর অধিকার দাবি জানানো হবে নির্বাচন কমিশনের কাছে।

    অন্যদিকে, কালীঘাটের তৃণমূল নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে আলাদাভাবে চিঠি দিয়েছে। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দলে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি নতুন কমিটির সদস্যদের তালিকাও কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

    ফলে দলীয় প্রতীক ও সাংগঠনিক স্বীকৃতি নিয়ে দুই পক্ষের দাবি-দাওয়ার জেরে নির্বাচন কমিশনের সামনে আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া হতে চলেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিরোধ দ্রুত মেটার সম্ভাবনা কম এবং বিষয়টি দীর্ঘ আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোতে পারে।

     
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)