নারী নিরাপত্তায় একগুচ্ছ পদক্ষেপ, পুজোর আগেই চালু হবে ১১২ হেল্পলাইন নম্বর
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০১ জুলাই ২০২৬
নারী নিরাপত্তা বাড়াতে একাধিক নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, বর্তমানে রাজ্যে পুলিশের ঘটনাস্থলে পৌঁছতে গড়ে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে। সেই সময় কমাতে দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যজুড়ে চালু হচ্ছে ১১২ হেল্পলাইন নম্বর। পাশাপাশি প্রতিটি থানার জন্য একটি নির্দিষ্ট গাড়ির ব্যবস্থা থাকবে, যাতে অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছনো যায়।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকার নারী ক্ষমতায়নের পাশাপাশি নারী নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াত, অন্নপূর্ণ যোজনা এবং উচ্চশিক্ষায় আর্থিক সহায়তার মতো প্রকল্প চালুর পাশাপাশি এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে আর কোনওভাবেই আরজি করের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া যাবে না। অভিযুক্তের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
নারী নির্যাতনের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বিচার নিশ্চিত করতে একটি নারী সুরক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় এবং সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেন।
অতীতে কোনও নারী নির্যাতনের ঘটনায় বিচার না পেয়ে থাকলে, ক্ষতিগ্রস্তদের কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে অভিযুক্তের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো পদক্ষেপও গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, আগামীকাল থেকেই রাজ্যের প্রতিটি থানায় মহিলা ডেস্ক চালু হবে। প্রতিটি মহকুমায় একটি করে মহিলা থানার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি মহিলা পুলিশকর্মীদের নিয়ে গঠন করা হবে বিশেষ ‘দুর্গা স্কোয়াড’, যারা নারী নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।
দুর্গাপুজোর আগেই চালু হতে চলা ১১২ হেল্পলাইনকে কেন্দ্র করে প্রতিটি থানায় একটি নির্দিষ্ট পুলিশ গাড়ি মোতায়েন থাকবে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত ও মহারাষ্ট্রের মতো কয়েকটি রাজ্যে অভিযোগ পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পশ্চিমবঙ্গেও নতুন এই ব্যবস্থারর মাধ্যমে পুলিশের প্রতিক্রিয়ার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।