• রাম মন্দিরের টাকা নয়ছয়, চম্পতের ভাগ্য নির্ধারণে বৈঠকের দিন এগোল ট্রাস্ট
    প্রতিদিন | ০১ জুলাই ২০২৬
  • চাঁদা-অনুদান নিয়ে নয়ছয়, দুর্নীতি বিতর্কে জেরবার অযোধ্যার রামমন্দির (Ayodhya Ram Mandir) ট্রাস্ট। এবার জরুরি বৈঠক ডাকল তারা। এই নিয়ে বৈঠক আদপে হওয়ার কথা ছিল ১১ জুলাই, শনিবার। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তা এগিয়ে আনা হয়েছে ৬ জুলাই, সোমবার। ওই দিন মোহন্ত নৃত্যগোপাল দাসের নেতৃত্বে পরিচালিত শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের বৈঠকেই ভাগ্য নির্ধারিত হবে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং ট্রাস্ট-সদস্য অনিল মিশ্রের। একই সঙ্গে এ-ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে, মন্দিরকাজ পরিচালনায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দিনব্যাপী নজরদারি আরও জোরদার, আরও উচ্চতর স্তরে করার ব্যবস্থা গৃহীত হবে কি না। এবং একইসঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে, ভিড় পরিচালনায় মন্দিরে বর্তমানে যে ব্যবস্থা প্রচলিত আছে, তার আরও আধুনিকীকরণ প্রয়োজন কি না।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের আগস্টে মৃত্যু হয় ‘রাজা অযোধ্যা’ বিমলেন্দ্রমোহন মিশ্রর। ট্রাস্ট-সদস্য ছিলেন তিনি। সেই জায়গায় নতুন সদস্য নেওয়া হবে কি না, জরুরি বৈঠকে সেই প্রসঙ্গও উঠবে বলে খবর। মন্দিরের এক ট্রাস্ট সদস্য সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “গরমে দর্শনার্থীরা কষ্ট পাচ্ছেন। গরম তো রোজই বাড়ছে। কাজেই এর থেকে কীভাবে মন্দির চত্বরে উপস্থিত দর্শনার্থীদের রক্ষা করা যায়, তা ঠিক করতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ দরকার। সেই নিয়েও বৈঠকে কথা হবে।” জানা গিয়েছে, বৈঠকের পৌরোহিত্য করেছেন ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দ দেব গিরি।

    প্রসঙ্গত, এর আগে সোমবার মন্দিরের অনুদান-বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছিল ফৈজাবাদ বার অ্যাসোসিয়েশন। তারা রীতিমতো প্রস্তাব পাস করিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, আর্থিক দুর্নীতিতে গ্রেপ্তার আট জনের হয়ে তাদের সংগঠনের কোনও সদস্য লড়বেন না। লড়লে আগে তাঁকে অভিযুক্ত পিছু ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা বাবদ অ্যাসোসিয়েশনের কাছে জমা দিতে হবে। এদিকে, এই বিতর্কের মধ্যেই সামনে এসেছে অনুদান-দুর্নীতির নেপথ্যে থাকা গাফিলতির পাঁচটি দিক।

    প্রথমত, প্রাথমিকভাবে তদন্তকারী দলের দাবি, প্রায় ৪০টি দানবাক্স থেকে সংগৃহীত নগদ অর্থ ধাপে ধাপে স্থানান্তরিত হত। আর এই প্রক্রিয়াতেই ছিল গলদ। দ্বিতীয়ত, প্রণামী-বাবদ নগদ ব্যবস্থাপনা বিধি লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। তৃতীয়ত, সিসিটিভি সংক্রান্ত অনিয়ম। ৪৫ দিন পর না কি ফুটেজ আপনা আপনিই মুছে যেত! অর্থাৎ তা সংরক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা ছিল না। এছাড়াও প্রণামী বাবদ গণনাকৃত অর্থ ও ব্যাঙ্ক জমা মিলিয়ে দেখা হত না। চতুর্থত, এসবিআই-এর তরফে অনিয়ম নিয়ে তিন মাস আগেই সতর্ক করা হয়েছিল, যা উপেক্ষা করে ট্রাস্ট। পঞ্চমত, দেশের অন্যান্য বড় মন্দিরে যে পদ্ধতিতে সিসিটিভি নজরদারি হয়, বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বিধি অনুসৃত হয়, রাম মন্দিরের ক্ষেত্রে তা করা হত না বলেই অভিযোগ।
  • Link to this news (প্রতিদিন)