পুণের লোহাগড় দুর্গে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটে হবু স্বামীকে খুনের ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ। আর এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠল এক ডেন্টিস্টের বিরুদ্ধে। দাবি, ওই দন্ত চিকিৎসক সোশাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে কেতনের মৃত্যু নিয়ে হাসিঠাট্টা করেছেন। আর এরপরই তাঁকে পাঁচ বছরের জন্য সাসপেন্ড করল অল ইন্ডিয়া ডেন্টাল স্টুডেন্টস অ্যান্ড সার্জেনস অ্যাসোসিয়েশন।
ইনস্টাগ্রামের স্টোরিতে পোস্ট করা ওই ভিডিওয় মুসকান সোনি নামের ওই ডেন্টিস্টকে বলতে শোনা গিয়েছে, ”পুণের লোকটির মাথায় চুল ছিল না। এমন মিথ্যে বললে মরতে তো হবেই। এই কারণেই আমি পুরুষদের ঘৃণা করি। দু’জনের মৃত্যুর পরে ছেলেরা ভয় পেয়ে গিয়েছে।” কথাগুলি বলার সময় তাঁকে রীতিমতো হাসিতে লুটিয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে।
এরপরই তাঁকে পাঁচ বছরের জন্য সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় সংগঠনটি। জানানো হয়েছে, ‘ড. মুসকান সোনি প্রয়াত কেতন আগরওয়াল সম্পর্কে অনুপযুক্ত, আপত্তিকর ও অসম্মানজনক মন্তব্য করেছেন। যা এআইডিএসএ-র আচরণবিধি ও নৈতিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।’ পাশাপাশি সংগঠনটি জানিয়েছে, অবিলম্বে আগামী পাঁচ বছরের জন্য AIDSA-র আওতাধীন সমস্ত পদ, কার্যালয়, দায়িত্ব, কমিটি ও সদস্যপদ-সহ সকল আনুষ্ঠানিক ভূমিকা থেকে ডা. সোনিকে পাঁচ বছরের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এই সময়কালে তিনি সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করতে বা কোনও কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। পাশাপাশি সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনও অধিকার বা দায়িত্ব পালন করতেও পারবেন না।
উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডে (Pune Murder Case) গুরুত্বপূর্ণ একটা ফ্যাক্টর হিসেবে উঠে এসেছে পরচুলা! কেতনের বাবা সাংবাদিকদের বলেছেন, ”এটা সত্যি যে কেতন মাথার উপরে ছোট্ট একটা প্যাচ বা পরচুলা ব্যবহার করত। বাগদানের আগেই সিয়া ও তার পরিবারকে এ বিষয়ে জানানোও হয়েছিল। যদি ওর কোনও আপত্তি থাকত, তবে তখনই ‘না’ করে দিতে পারত। আমার ছেলেকে মেরে ফেলার কী দরকার ছিল?” তবে তিনি পরচুলা প্রসঙ্গ তুললেও পুলিশ মনে করছে, এমন ঘৃণ্য অপরাধের নেপথ্যে স্রেফ সেটাই একমাত্র কারণ হতে পারে না।
প্রসঙ্গত, কেতনের হত্যাকাণ্ডে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। কখনও শোনা যাচ্ছে, বিয়ে নিয়ে রীতিমতো হুমকি দিয়েছিলেন। কখনও জানা যাচ্ছে, হবু স্বামীকে খুন করার জন্য সিয়াকে চাপ দিয়েছিলেন তাঁর প্রেমিক চেতন। পুলিশ হেফাজতে শুরুতে সিয়া ও চেতন একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করেন। যদিও দু’জনেই শেষ পর্যন্ত নিজেদের দোষ স্বীকার করেছেন। ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে। এদিকে তদন্তে নেমে এও জানা যাচ্ছে, সিয়ার যে একজন ‘বিশেষ বন্ধু’ রয়েছে এটা তার পরিবার জানত। তবে পরিবারকে জানানো হয়েছিল, কেতনের সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পর সেই সম্পর্ক আর থাকেনি। মনে করা হচ্ছে, সাময়িক বিচ্ছেদ যদি ঘটেও থাকে, কেতনকে বিয়ে করার বিষয়টি সিয়া মেনে নিতে না পারায় পরবর্তী সময়ে চেতন পুনরায় তার জীবনে ফিরে আসে।