• লক্ষ্মীবারই মমতার হাতছাড়া তৃণমূল? জ্ঞানেশ সাক্ষাতে ঋতব্রতরা, ‘ভ্যানিশে’র হাতেই কালীঘাটের ভাগ্য
    প্রতিদিন | ০১ জুলাই ২০২৬
  • বঙ্গে ভোটপ্রচারের সময় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে দিনরাত বাক্যবাণে বিদ্ধ করতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নামের সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে জ্ঞানেশ কুমারকে বারবার ‘ভ্যানিশ’ কুমার বলে কটাক্ষ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকী মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার ক্ষেত্রেও সামনের সারিতে ছিল তৃণমূল। কালের চক্রে এবার সেই জ্ঞানেশ কুমারের হাতেই নির্ধারিত হতে চলেছে মমতা-তৃণমূলের ভাগ্য।

    নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলের নিয়ন্ত্রণ দখলে মরিয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। ইতিমধ্যেই কলকাতার সিইও অফিসে গিয়ে ঋতব্রত শিবিরের পাঁচ বিধায়ক তথা ‘আসল তৃণমূলে’র গঠন করা কমিটির সদস্যরা তাঁদের তথাকথিত ‘বিশেষ অধিবেশনে’র নথি জমা দিয়ে এসেছেন। দাবি করে এসেছেন, আসল তৃণমূল তাঁরাই। দলের কর্মসমিতিও নতুন করে গঠিত হয়েছে। সেদিনই দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সময়ও চেয়েছিলেন তাঁরা।

    বৃহস্পতিবার কমিশন সেই সময় দিয়েছে। দিল্লির নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার সময় ঋতব্রতপন্থীদের ১০ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে গিয়ে দেখা করবেন। ঋতব্রতরা যে নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করে জ্ঞানেশ কুমারের কাছে দলের প্রতীক ও তহবিলের অধিকার দাবি করতে চলেছেন সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। সূত্রের খবর, কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করার জন্য বুধবার বিকালেই দিল্লি রওনা দেবেন ঋতব্রত তৃণমূলের প্রতিনিধিরা।  

    চলতি মাসেই কলকাতার এক পাঁচতারা হোটেলে দলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডেকেছিলেন বিরোধী দলনেতা। সেখানে তৃণমূলের চেয়ারপার্সন পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে অরূপ রায়কে নির্বাচিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ৩০ সদস্যের একটি কার্যকরী কমিটিও গড়েছেন ঋতব্রতরা। সূত্রের দাবি, জ্ঞানেশ সাক্ষাতে সেই অধিবেশনের ‘মিনিটস’ জমা দেবে ‘আসল তৃণমূল’। ঋতব্রত শিবিরের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চেয়ারপার্সন ধরে আগে যে কর্মসমিতি ছিল সেটার মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাই ওই কর্মসমিতি অবৈধ। সূত্রের দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের কাছে ঋতব্রত শিবির দাবি করবে, শুধু যে পরিষদীয় দল নয়, দলের সংগঠনও তাদেরই সঙ্গে। ফলে দলের প্রতীক এবং তহবিলও তাঁদের প্রাপ্য। 

    যার অর্থ বৃহস্পতিবারই সরকারিভাবে তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে আইনি লড়াইটা শুরু হয়ে গেল। যে লড়াই এখন বহুদূর গড়াবে। ইতিমধ্যেই কালীঘাট তৃণমূল কমিশনে চিঠি দিয়ে এসেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই দলের চেয়ারপার্সন। দলের নতুন কমিটির সদস্যের নামও আলাদা করে জমা দিয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। সব মিলিয়ে যা পরিস্থিতি তাতে এই জল বহুদূর গড়াবে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)