বাইক চালানো ছিল তাঁর নেশা। বাইক চালিয়ে কখনও লাদাখ কখনও দিঘা, পুরী যাওয়া ছিল তাঁর শখ। প্রকৃতি তাঁকে হাতছানি দেয় সবসময়। প্রকৃতির টানেই শ্যামপুরের বকুলতলা থেকে বাইকে চেপে সুদূর নেপাল যাচ্ছিল হাওড়ার প্রত্যন্ত গ্রাম শ্যামপুরের তরুণ সুমন মণ্ডল। পশুপতিনগর ফাঁড়ি এলাকায় এক ট্রাকের সঙ্গে দুর্ঘটনার জেরে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রকৃতির কোলেই মৃত্যু হল তাঁর। সন্তান এভাবে চলে যাওয়ায় মুষড়ে পড়েছে গোটা পরিবার। শোকাহত পাড়া-প্রতিবেশীরাও।
২০২২ সাল থেকে বাইকে চড়ে প্রকৃতির টানে দুর দূরান্তে বেরিয়ে পড়া শুরু হয়েছিল। একাধিক চাকরির পরীক্ষায় পাশ করেছিল সুমন। তাই গত এক বছর কোথাও বেরননি কিন্তু মন তো আর মানে না। তাই পরিবারের বাধাকে কার্যত অমান্য করে একাই বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন নেপালের উদ্দেশ্য়ে। কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে পথেই প্রাণ হারালেন সুমন। গত সপ্তাহের মঙ্গলবার সে বেরিয়েছিল। ২৭ তারিখ দুপুর ২টো ৫০ মিনিট নাগাদ তাঁর পথ দুর্ঘটনা ঘটে।
তবে একটা সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, তার সঙ্গে এক বন্ধু ছিল কিন্তু কোনও কারণে সে মাঝপথেই বাড়ি চলে আসে। ফলে সুমন একাই নেপালের উদ্দেশে যাচ্ছিল। সুমনের বাবা বলেন শুভ্রবিকাশ মণ্ডল বলেন, “ছেলে বাড়িতেও বলেছিল একাই যাচ্ছে। তারপর কোথা থেকে যে কি হয়ে গেল জানিনা। ওর খুবই বেড়াতে যাওয়ার নেশা ছিল। প্রকৃতির টানে ও বিভোর থাকত। প্রকৃতিকে খুব ভালোবাসত। আর সেই প্রকৃতির টানেই শেষ হয়ে গেল ছেলেটা। কি যে করি কিছু বুঝে উঠতে পারছি না।”
গত ২৭ তারিখ দুপুর তিনটের পর থেকে সুমনের সঙ্গে পরিবারের লোকেরা যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। ফোন বন্ধ বলছিল। তখনই তাদের মনে কু ডেকেছিল। সুমন নেপালের একটি নম্বরও নিয়েছিল। হোয়াটসঅ্যাপ কল করা হয়। সুমনের খোঁজ পান। তাঁর নিথর দেহের খবর আসে পরিবারের কাছে। নেপাল পুলিশের মাধ্যমে সুমনের মৃত্যুর খবর জানতে পারে। সুমনের সম্পর্কিত জামাইবাবু সুজয় সরকার গিয়েছিলেন নেপালে। তিনি দেহ ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। মঙ্গলবার তাঁর দেহ নিয়ে আসা এবং সৎকারও হয়ে গিয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। সুমনের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সুমন বাবা-মায়ের একমাত্র পুত্রসন্তান। সুমনের বোন তেলেঙ্গানার বিজয়ওয়াড়া এইমসে বিএসসি নার্সিং পড়ছেন।