‘কালীঘাট তৃণমূলে’র সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই (Abhishek Banerjee) শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মাস্টার মাইন্ড! পালাবদল হতেই বিস্ফোরক দাবি মিডলম্যান তাপস মণ্ডলের। একটি সংবাদমাধ্যমে তিনি দাবি করেন, টাকা হাতে না পেলে ভেরিফিকেশন আটকে রাখতেন অভিষেক। কুন্তল ঘোষ টাকা পৌঁছে দিতেন কালীঘাটের কাকু অর্থাৎ সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের কাছে। তাঁর কাছ থেকে টাকা যেন অভিষেকের কাছে। আর এই সবটাই নাকি জানতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!
গত কয়েকবছর ধরে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত চলছে। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাঁরা জামিনে মুক্তিও পান। তবে শুরু থেকেই একটা প্রশ্নই উঠছিল, রাজ্যের বুকে এতবড় দুর্নীতির হদিশ পাননি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? পরবর্তীতে অভিষেকের যোগ নিয়ে চর্চাও শুরু হয়েছিল। আন্দাজ করা হচ্ছিল, সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের মুখে সর্বদা যে সাহেবের কথা শোনা যায়, তিনি অভিষেকই। যদিও সরাসরি কেউ তার নাম করেননি। পালাবদলের পর এবার অবশেষে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জামিনে মুক্ত তাপস মণ্ডল(মিডলম্যান)।
বিস্ফোরক দাবি করেছেন তাপস। তাঁর কথায়, “আমি মোট নগদে ১৯ কোটির বেশি টাকা দিয়েছি। এক ডায়েরি মেনটেন করতাম। টাকা দিলেও লিখে রাখতাম, নিলেও। টাকা না দিলে ভেরিফিকেশন আটকে দেওয়া হত। কালীঘাটের কাকু বলতেন, ‘সাহেব’ টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন। আমি কুন্তলের হাতে টাকা পাঠাতাম। ও পৌঁছে দিত সুজয়কৃষ্ণের কাছে।” কিন্তু কে এই ‘সাহেব’? তাপস মণ্ডলের দাবি, এই সাহেব আদতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “অভিষেক এই দুর্নীতির মাস্টার মাইন্ড। ওর নির্দেশেই সব হতো। অভিষেকের নির্দেশ ছাড়া এত বড় দুর্নীতি হতে পারে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সবটা জানতেন। উনি জানেন না এটা হতে পারে না।” অভিষেকের গ্রেপ্তারির দাবি করেছেন তিনি। সায়নী ঘোষ প্রসঙ্গেও বিস্ফোরক দাবি করেছেন তাপস। তিনি জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি সায়নীকে ফ্ল্যাটও উপহার দিয়েছেন। যদিও কোথায়, কী বৃত্তান্ত তা জানা নেই বলেই জানিয়েছেন তিনি।