• প্রতারণার পর্দাফাঁস করতে এবার প্রতি থানায় সাইবার ডেস্ক, নির্দেশ লালবাজারের
    প্রতিদিন | ০১ জুলাই ২০২৬
  • কলকাতা পুলিশের অধীন বিভিন্ন থানায় সাইবার প্রতারণার অভিযোগ জানাতে গেলে ঠিক কোথায় যেতে হবে, তা নিয়ে এখনও বহু মানুষই সন্দিহান। যার ফলে বহুবার প্রতারিতদের হয়রানির খবরও সামনে এসেছে। প্রসঙ্গত, সাইবার প্রতারণার জালে পড়ে দক্ষিণ কলকাতার এক ব্যবসায়ী মোটা টাকা খুইয়েছিলেন। তিনি প্রথমে স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও সেখান থেকে বাকি প্রক্রিয়ার জন্য তাঁকে পাঠানো হয়েছিল ডিভিশনাল সাইবার সেলে, যেটা তাঁর স্থানীয় থানায় থেকে প্রায় কয়েক কিলোমিটার দূরে। কারণ ওই সংশ্লিষ্ট থানায় আলাদা করে কোনও সাইবার সহায়তা কেন্দ্র ছিল না।

    লালবাজার সূত্রের খবর, এই ভোগান্তি এড়াতে এবং ক্রমবর্ধমান সাইবার প্রতরাণার কথা মাথায় রেখে নয়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার কলকাতা পুলিশের অধীনস্থ সমস্ত থানায় সাইবার সহায়তা কেন্দ্র চালু করার নির্দেশ দিয়েছে লালবাজার। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু থানায় এই পরিষেবা চালুও হয়ে গিয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রতারিতদের সহায়তা দেওয়ার জন্য একজন করে অফিসারও থাকবেন।

    কলকাতা পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, ডিজিটাল অ্যারেস্ট, কেওয়াইসি আপডেট, বড় বিনিয়োগের টোপ দিয়ে প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে জালিয়াতদের খপ্পরে পড়েন প্রবীণ থেকে নবীনরাও। প্রতারিত ব্যক্তি কোথায় যাবেন, কীভাবেই বা অভিযোগ দায়ের করবেন, তার যাবতীয় খুঁটিনাটি সম্পর্কে মানুষকে ধারণা দিতে প্রতি থানায় ২৪ ঘণ্টার সাইবার সহায়তা কেন্দ্র চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি থানায় মহিলাদের জন্য বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র চালুর কথাও বলা হয়েছে লালবাজারের তরফে। এই কেন্দ্রে সর্বক্ষণ একজন করে মহিলা পুলিশকর্মী থাকবেন।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার প্রতারণা প্রথম এক ঘণ্টা খুবই গুরুত্বরপূর্ণ। প্রতারিত হওয়ার পর ভুক্তভোগীরা পুলিশে অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি টোল ফ্রি ১৯৩০ নম্বরে ফোন করে ও ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে। পুলিশের দাবি, দ্রুত অভিযোগ দায়ের হলে খোয়া যাওয়া টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হওয়ার আগেই আচকানো যেতে পারে। এর জন্য সাইবার সহায়তা কেন্দ্রগুলি কার্যকর হবে বলে মত লালবাজারের।
  • Link to this news (প্রতিদিন)