দ্বিতীয় কিস্তির অপেক্ষায় আটকে বাড়ির তৈরির কাজ, সরকারের বিরাট বরাদ্দে চোখে নতুন স্বপ্ন
News18 বাংলা | ০১ জুলাই ২০২৬
মুর্শিদাবাদ জেলার জ্বলন্ত এক সমস্যা গঙ্গা ভাঙন। শুধু সামশেরগঞ্জ বা ফরাক্কা নয়, লালগোলার তারানগর গ্রাম নিশ্চিন্ন হয়ে গিয়েছে ভাঙনের গ্রাসে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার তারানগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে তিনটি পরিবার রয়েছে। এখনও ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা জমি পেয়েছেন এবং প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছেন। কিন্তু দ্বিতীয় কিস্তির টাকা না পাওয়ার কারণে বাড়ি তৈরি করতে সক্ষম হননি। এখনও পর্যন্ত ১২৪ জনের ঘর ভেঙেছে, যার মধ্যে ১২১ জন পাট্টা পেয়েছেন।
তবে তিনজন পাট্টা পাননি। গত এক বছর ধরে চোখের সামনে তলিয়ে গিয়েছে একের পর এক ঘর। তবুও রক্ষা করতে পারেনি ভিটেমাটি। রাজ্যে পালা বদল হয়ে এখন বিজেপি সরকার গঠন করেছে। বর্তমানে বিজেপি সরকার গঠন হতেই নতুন করে বাজেটে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ হতেই আশার আলো দেখছেন গ্রামের ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দারা।
গত সপ্তাহে ২২ জুন বাজেটে মুর্শিদাবাদ জেলার গঙ্গা ভাঙনের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আর সেই কারণেই নতুন করে আশার আলো দেখছেন ভাঙন কবলিত মুর্শিদাবাদের লালগোলার বাসিন্দারা। ভাঙন নিয়ন্ত্রণে সঠিক দিশা তৈরি করা হোক, এটাই চাইছেন গ্রামের বাসিন্দারা। কারণ অনেক পরিবারকে ভিটে মাটি হারিয়ে মাঠের মধ্যে ত্রিপল খাটিয়ে অস্থায়ী ভাবে বসবাস করতে হচ্ছে।
উল্লেখয, লালগোলা ব্লকের একটি বর্ধিষ্ণু গ্রাম তারানগর। এই তারানগরের মাটিতে জন্মেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দফতরের প্রাক্তন মন্ত্রী সামায়ুন বিশ্বাস। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মইদুল ইসলাম এই তারানগরের ভূমিপুত্র। বর্তমানে প্রায় ৪০০ পরিবারের বাস এই গ্রামে। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, এক দশক আগেও তারানগর থেকে দুই কিলোমিটার দূর দিয়ে পদ্মা প্রবাহিত হত। তখন পদ্মা থেকে কিছুটা দূরে ছিল কালীনগর গ্রাম। কালীনগর গ্রাম এখন পদ্মা গর্ভে। এবার তারানগরকে গিলতে ক্রমশ এগিয়ে আসছে পদ্মা। কবে মিলবে সমাধান, তা নিয়ে এখন চিন্তিত গ্রামের বাসিন্দারা।