• অবৈধ হোটেল ব্যবসায়ীদের কড়া বার্তা! টাকির ইছামতি তীরে যা হল, বেআইনি কাজের আগে ১০ বার ভাববেন
    News18 বাংলা | ০১ জুলাই ২০২৬
  • : হাইকোর্টের নির্দেশে ইছামতির তীরে বুলডোজার, টাকির অবৈধ হোটেল ভাঙতে প্রশাসনের অভিযান।আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে ইছামতি নদীর তীরে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে বড়সড় উচ্ছেদ অভিযানে নামল প্রশাসন। আজ বুধবার সকাল থেকে উত্তর ২৪ পরগনার টাকি শহরে সেচ দফতরের জমির উপর গড়ে ওঠা দুটি অবৈধ হোটেল ভাঙার কাজ শুরু হয়। হাইকোর্টের নির্দেশে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বুলডোজার নামিয়ে চলে এই অভিযান।

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ইছামতি নদীর তীরবর্তী সেচ দফতরের সরকারি জমি দখল করে ‘টাকি সিটি গেস্ট হাউস’-সহ দুটি হোটেল নির্মাণ করা হয়েছিল। বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পর তদন্ত ও শুনানি শেষে কলকাতা হাইকোর্ট অবৈধ নির্মাণ অপসারণের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই এদিন সকাল থেকে শুরু হয় ভাঙার কাজ। অভিযানকে ঘিরে গোটা এলাকায় ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনিক আধিকারিক, সেচ দফতরের প্রতিনিধি এবং টাকি পৌরসভার কর্মীরা।

    প্রথমে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়, এরপর ধাপে ধাপে বুলডোজারের সাহায্যে হোটেলগুলির বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলা শুরু হয়। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বহু বছর ধরেই সরকারি জমি দখল করে নদীর ধারে এই নির্মাণ গড়ে উঠেছিল। একাধিকবার অভিযোগ উঠলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত আদালতের হস্তক্ষেপের পর প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযানে নামতে বাধ্য হয়। ফলে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন বাসিন্দাদের একাংশ।

    প্রশাসনের বক্তব্য, সরকারি জমি দখল করে কোনও ধরনের স্থায়ী নির্মাণ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে কার্যকর করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও সরকারি জমি কিংবা নদী সংলগ্ন এলাকায় বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশে শুরু হওয়া এই উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে টাকি জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ইছামতি নদীর তীরবর্তী পরিবেশ সংরক্ষণ, সরকারি জমি রক্ষা এবং বেআইনি দখলদারির বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসনের এই অভিযানে ভবিষ্যতে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে আরও কঠোর বার্তা পৌঁছে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)