সাত পাকে বাঁধা পড়ে নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন এক নিমেষেই বদলে গেল দুঃস্বপ্নে। বিয়ের মাত্র কয়েকটা দিন কাটতে না কাটতেই নৃশংস নির্যাতনের শিকার হলেন এক তরুণী। নয়ডার সেক্টর-৫৮ এলাকায় বাসিন্দা এক ব্যক্তি তাঁর নববিবাহিত স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর, শারীরিক নির্যাতন এবং এমনকী ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে থাকায় পুলিশের দ্বারস্থ হন তরুণী। নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে নয়ডা পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে FIR দায়ের করেছে।
পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে নির্যাতিতা তরুণী জানিয়েছেন, গত ২১ মে তাঁদের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পরের দিন থেকেই তাঁর স্বামীর আচরণ সম্পূর্ণ বদলে যায়। সামান্য কারণেই স্বামী তাঁর ওপর চড়াও হতেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতেন।
অভিযোগ পত্রে তরুণী উল্লেখ করেছেন, গত ২৫ মে রাতে পারিবারিক কোনও একটি সাধারণ বিষয় নিয়ে কথা বলার সময়ে আচমকাই তাঁর স্বামী উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এর পরে তিনি তরুণীকে চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে মেঝেতে ফেলে দেন। কথায় কথায় লাথি ও ঘুষি মারার অভিযোগ তো আছেই। এর জেরে তরুণীর শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর চোট লেগেছে বলে দাবি।
এখানেই শেষ নয়, তরুণীর অভিযোগ তাঁরা বিয়ের পরে সিকিম ও দার্জিলিংয়ে হনিমুনে যান। সেখানেও তাঁকে সিঁড়ি থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন তাঁর স্বামী বলে অভিযোগ করেছেন নববধূ।
নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, শুধু মারধরেই অত্যাচার থেমে থামেনি। তাঁর স্বামী তাঁকে টেনে নিয়ে বাড়ির ছাদে যান এবং সেখান থেকে নিচে ফেলে দিয়ে খুন করার ভয় দেখান। এর পরেই তরুণী কোনওমতে নিজেকে বাঁচাতে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং সে যাত্রায় তিনি রক্ষা পান। ঘটনার পরে আতঙ্কে এবং শারীরিক যন্ত্রণায় ভেঙে পড়া ওই তরুণী সেক্টর-৫৮ থানায় গিয়ে অভিযোগ জানান।
নয়ডার এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, নির্যাতিতার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তরুণীর শারীরিক পরীক্ষার (Medical Examination) জন্য তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস পাঠিয়েছে এবং ঘটনার সময়ে বাড়িতে উপস্থিত অন্যান্য সদস্যদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।