পুনের লোহাগড় দুর্গে (Lohagad Fort) ২৫ বছর বয়সি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডে পরতে পরতে সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের অনুমান, কেতনকে পাহাড়ের গভীর খাদে ঠেলে ফেলে দেওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে তাঁর মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেয় সিয়া গোয়েল। তবে কেতন সচেতন ভাবে হবু স্ত্রীয়ের হাতে ফোনটি তুলে দিয়েছিলেন কি না তা জানা যায়নি। পরে সিয়া ফোনটি কেতনের পরিবারের হাতে তুলে দিলেও, পুলিশের সন্দেহ— মাঝের এই সময়ে সিয়া ফোন থেকে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ বা চ্যাট ডিলিট করেছেন কি না।
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে বেড়াতে নিয়ে গিয়ে কেতনকে খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী (২২)। সিবিআই ও স্থানীয় পুলিশ ইতিমধ্যেই সিয়া ও চেতনকে সঙ্গে নিয়ে অপরাধস্থলের পুনর্নির্মাণ (Crime Scene Reconstruction) করেছে। বুধবার লোহাগড় দুর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল চেতনকে। সেখানে জানা গিয়েছে, খুনের জন্য একটি বিশেষ 'কোড সিগন্যাল' বা সঙ্কেত ঠিক করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী, দুর্গের খাদের ধারে পৌঁছে সিয়া হঠাৎ মাটিতে বসে পড়েন (জল খাওয়ার নাম করে অথবা জুতোর ফিতে বাঁধার অজুহাতে)। এটিই ছিল চেতন চৌধরির জন্য সঙ্কেত। সিয়া মাটিতে বসে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হুডি পরা চেতন পিছন থেকে এসে আচমকা কেতনকে গভীর খাদে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন বলে অনুমান। তবে চেতন না সিয়া কে ধাক্কা মেরেছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তদন্তকারীদের দাবি, দু’জনেই একে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাতে চেয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সিয়া ইচ্ছাকৃতভাবেই মাটিতে বসার পরিকল্পনা করেছিলেন যাতে কেতন পড়ে যাওয়ার সময়ে নিজেকে বাঁচাতে সিয়াকে আঁকড়ে ধরতে না পারেন।
পুলিশি জেরায় জানা গিয়েছে, চেতন ধাক্কা মারার ঠিক কয়েক মুহূর্ত আগে সিয়া কেতনের ফোনটি নিয়ে নিয়েছিল। কেতনের মৃত্যুর পরে তিনি স্বাভাবিক ভাবেই সেই ফোনটি তাঁর আত্মীয়দের ফেরত দেন। সরকারি আইনজীবী আদালতে সিয়া ও চেতনের পুলিশি হেফাজত বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে বলেন, সিয়া এবং চেতন নিজেদের মধ্যকার চ্যাট ও ষড়যন্ত্রের ডিজিটাল প্রমাণ ইতিমধ্যেই মুছে ফেলেছেন। এখন কেতনের ফোনটি সিয়ার কাছে থাকায়, সেখান থেকেও কোনও গুরুত্বপূর্ণ কল রেকর্ড বা মেসেজ ডিলিট করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ফোনটি ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কেতন ও সিয়ার বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল এবং আগামী নভেম্বর মাসে তাঁদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সিয়া গত অক্টোবর থেকে চেতন চৌধরির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে ছিলেন এবং তিনি এই বিয়েতে রাজি ছিলেন না। পুলিশকে সিয়া জানিয়েছেন, বিয়ে ভেঙে দিলে পরিবারে অশান্তি ও সামাজিক সম্মানহানি হবে— এই ভয়েই তিনি কেতনকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এমনকী এর আগে কেতনের সঙ্গে বালি (Bali) যাওয়ার একটি প্রি-ওয়েডিং ট্রিপও ইচ্ছাকৃতভাবে পাসপোর্ট লুকিয়ে রেখে ভেস্তে দিয়েছিলেন সিয়া। কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়াল পুলিশে অভিযোগে জানিয়েছেন, কেতন নিজেও মৃত্যুর আগে সিয়া ও চেতনের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন এবং সিয়ার ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু সেই সুযোগ আর পাননি কেতন। বর্তমানে অভিযুক্ত সিয়া গোয়েল ও চেতন চৌধুরী দুজনেই পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।