রাজনীতি করলে অনেক বাঁকা কথা ধেয়ে আসে। অনেকেই নেতাদের সমালোচনা করেন। কখনও তা রসসিক্ত লঘুরসের হতে পারে, কখনও তা তীক্ষ্ণ-ধারালোও হতে পারে। সেই সব বিনম্র ভাবেই গ্রহণ করতে হয়। সদ্য আম আদমি পার্টি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাঘব চাড্ডাকে এই পরামর্শই দিল দিল্লি হাইকোর্ট। সমাজমাধ্যমে কিছু ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট নিয়ে রাঘব আপত্তি তোলায় উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, নেতাদের গায়ের চামড়া এত পাতলা হওয়া উচিত নয়!
রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে অনেকেই আপত্তিকর পোস্ট করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাতে তাঁর সম্মানহানি হচ্ছে জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাঘব। বুধবার ওই মামলা ওঠে বিচারপতি সুব্রহ্মণ্যম প্রসাদের বেঞ্চে। রাঘব সমাজমাধ্যমের মোট ৫২টি পোস্ট নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। তার মধ্যে মাত্র ৬টি পোস্ট সরানোর অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। সমাজমাধ্যমের বাকি পোস্ট নিয়ে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এক জনপ্রতিনিধির সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা থাকা চাই। কোনও নেতা দলবদল করলে বা তাঁর নীতি-আদর্শ বদলে গেলে তা নিয়ে অনেকেই খোঁচা দিতে পারেন। এটা রাজনীতিরই অংশ। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ব্যঙ্গাত্মক সমালোচনা মানেই তা মানহানি নয়।
রাঘব আদালতে দাবি করেছিলেন, সমাজমাধ্যমের বেশ কিছু পোস্টে তাঁর সম্মান এবং ব্যক্তিত্বের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে। অতীতে ঐশ্বর্য রাই বচ্চন, অভিষেক বচ্চন বা সলমন খানের মতো অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে আদালত এই অধিকারের মান্যতা দিয়েছিল বলেও জানিয়েছিলেন সাংসদ। তার প্রেক্ষিতে বিচারপতি প্রসাদ জানিয়ে দেন, রাঘবের মামলার সঙ্গে ব্যক্তিত্বের অধিকারের কোনও সম্পর্ক নেই। বিচারপতি বলেন, ‘আমি কিছু কনটেন্ট সরানোর নির্দেশ দিয়েছি। কিন্তু এই মামলার সঙ্গে পার্সোনালিটি রাইটস এবং মানহানির কোনও যোগ নেই।’
কিছু ডিপফেক কনটেন্ট নিয়েও আপত্তি তুলেছিলেন রাঘব। তার প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বলেছে, ‘বাক স্বাধীনতার অধিকার থাকলেও মানুষের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনও এআই ডিপফেক প্রযুক্তিকে আদালত সমর্থন করে না।’