• শিশুস্বাস্থ্যে সচেতনতা বাড়াতে লড়াই অতনুর, করছেন সমাজসেবাও
    এই সময় | ০১ জুলাই ২০২৬
  • বিশ্বদেব ভট্টাচার্য, আসানসোল

    বেশ কয়েক বছর আগের কথা। এক সংবাদপত্র বিক্রেতার সন্তানের চিকিৎসার জন্য খুব দামি ইঞ্জেকশনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তাঁর সাধ্য ছিল না কেনার। সেই খবর কোনও ভাবে কানে পৌঁছয় অতনু ভদ্রের। পেশায় শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ। খবরটা পেয়ে তিনি এক মুহূর্ত ভাবেননি। ওই শিশুটির চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সবক'টি ইঞ্জেকশনের বন্দোবস্ত করে দিয়েছিলেন অতনুই। প্রাণ বাঁচে শিশুটির।

    এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আসানসোলের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অতনু বহু বছর ধরে রক্তদান আন্দোলন, থ্যালাসেমিয়া সচেতনতারও অন্যতম মুখ, সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন সমাজসেবাও। পেশাগত চিকিৎসার বাইরে গিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার মতো জেলাগুলির পাশাপাশি সারা দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য কী করে ভালো রাখা যায়, এই স্বপ্নই দেখে চলেছেন । শিশু বিশেষজ্ঞদের সর্বভারতীয় সংগঠনের সহ-সভাপতি, কখনও সর্বভারতীয় কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব সামলেছেন। এই মুহূর্তে ওই সংগঠনের উদ্যোগে দেশ জুড়ে শিশুদের জন্য নেওয়া অ্যাকশন প্ল্যানের সর্বভারতীয় কো-অর্ডিনেটর অতনু। পেশাগত ভাবে তিনি আসানসোল ইএসআই হাসপাতালের প্রাক্তন সুপারিন্টেডেন্ট।‍ অতনুর কথায়, 'কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে আমি যখন তৃতীয় বর্ষের ছাত্র, তখনই দেখেছি, বিশেষ করে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের মানুষ তাঁদের শিশুসন্তানদের হাসপাতালে আনেন, যখন অনেকটা বাড়াবাড়ি হয়। তখন থেকেই ভেবেছিলাম, শিশুদের সুস্বাস্থ্যের জন্য সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। সেটাই করার চেষ্টা করছি। কখনও সংগঠনের কাজের জন্য, কখনও নিজের উদ্যোগেই বেরিয়ে পড়ি গ্রামে গ্রামে।'

    তাঁর কথায়, 'গত দু'বছর ধরে আমরা সংগঠনগত ভাবে সারা দেশে শিশুদের অ্যানিমিয়া চিহ্নিতকরণ এবং দূরীকরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। ছোট বাচ্চারা ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ দেখলে ভয় পায়। তাই সিরিঞ্জ দিয়ে রক্ত না টেনে একটি বিশেষ যন্ত্র দিয়ে আমরা হিমোগ্লোবিনের মাত্রা মেপে নিই। সাত–আট বছরের শিশুদের অ্যানিমিয়া পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখেছি, ৫০–৬০ শতাংশই এতে আক্রান্ত। শুধুমাত্র দারিদ্র বা পুষ্টিকর খাবারের অভাবের কারণে এটা হচ্ছে না। এর পাশাপাশি ফাস্টফুডের বহুল ব্যবহারের জন্যও হচ্ছে। কারণ, তাতে আয়রন ঠিকঠাক থাকে না।' অতনুর সংযোজন, 'শিয়ালদহ থেকে হাসনাবাদ বিভিন্ন স্টেশনে শিশুদের পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা— আমরা কয়েকজন মিলে সবটাই করার চেষ্টা করেছি।'আসানসোল মহকুমার বহু স্কুলেও অতনু ও তাঁর সঙ্গীরা নিয়মিত পড়ুয়াদের হেল্থ স্ক্রিনিং চালান। তাতে দেখা যায়, কোলিয়ারি এলাকার ছেলেমেয়েদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, সর্দিকাশির প্রবণতা অন্য জায়গার তুলনায় বেশি। এই প্রবণতা কমানোর জন্যও আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের ছেলেমেয়েদের চিকিৎসা পরিষেবা বিনামূল্যে দিচ্ছেন অতনুরা। উম্পুন হোক অথবা কোভিডের মতো অতিমারী— সব সময়েই অক্লান্ত ভাবে ছুটে বেড়িয়েছেন তাঁরা।

    তবে আরও একটা স্বপ্ন নিয়ে এগোচ্ছেন এই শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ। অতনু বলেন, 'শিশুদের ফুসফুস বা লাংয়ে কোনও ইনফেকশন আছে কি না, সেটা প্রাথমিক ভাবে বোঝার জন্য একটা যন্ত্র আছে। সেটা আগেভাগে বোঝা গেলে পরবর্তী সময়ে তাদের কোনও বড় সমস্যা হওয়ার আগে আটকানো সম্ভব। আমার ইচ্ছে, তা নিয়েও শিবির করার।'

  • Link to this news (এই সময়)