নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোর আগেই চার থেকে পাঁচটি নতুন সংস্থা বিনিয়োগের ঘোষণা করবে। তার মধ্যে দুটি বড়ো প্রকল্প হবে হুগলির ডানকুনি এবং পশ্চিম বর্ধমানের মেজিয়ায়। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত হয়েছে। মঙ্গলবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট হলে বেঙ্গল বিজনেস কাউন্সিলের (বঙ্গীয় বাণিজ্য পরিষদ) আলোচনাসভায় এসে এই ঘোষণা করলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। তিনি যোগ করেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এরাজ্যে শিল্প, জমি এবং ব্যবসা নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট নীতি ছিল না। বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল—দুটি আমলেই সেই নীতিহীনতার কারণে শিল্পোন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। এখন আমাদের সরকার শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে বিনিয়োগ টানার উপর জোর দিচ্ছে।’
এদিন ‘থট লিডারশিপ রাউন্ডটেবিল ২০২৬’ বা ‘চিন্তন মহাশিবির’ শীর্ষক আলোচনাসভায় সরকারের বাণিজ্যমুখী মনোভাব তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তও। তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার বিনিয়োগ টানতে আগ্রহী। ১০০ কোটির বিনিয়োগে পঞ্চায়েতের কাছে কোনো অনুমতি নিতে হবে না। ফায়ার লাইসেন্স জাতীয় ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা থাকবে। তবে আশা করব, আপনারা সহজদাহ্য কারখানা বানিয়ে ফেলবেন না।’
বাঙালির বাণিজ্য মঞ্চ বেঙ্গল বিজনেস কাউন্সিলের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। অর্থমন্ত্রী সে-কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, অনেকেই আমাকে বলেছেন, এরাজ্যে যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা বা বিনিয়োগ এলে লাভবান হবেন তো সেই পশ্চিম ভারতীয়রাই। এর উত্তরে তিনি নিজেই বলেন, সরকারে থেকে শুধু বাঙালির ব্যবসায়িক উন্নতির জন্য তিনি কথা বলতে পারেন না। সরকার এমন ব্যবস্থা করতে পারে যাতে বাঙালি উদ্যোগপতিরাও লাভবান হন।
কাউন্সিলের সভাপতি, বন্ধন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রশেখর ঘোষ অর্থমন্ত্রীর কাছে বেশকিছু প্রস্তাব রাখেন। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১০০ কোটির একটি মূলধনী তহবিল গঠনের কথা বলেন। যার মাধ্যমে ১০০০ জন উদ্যোগপতিকে ব্যবসায়িক সহযোগিতা করা যাবে। নিউটাউনের পাশাপাশি আরো একটি উপনগরী গঠনেরও প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, রেডিয়োলজি, নার্সিং এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত পেশাদারের অভাবের কথাও তুলে ধরা হয়।
মূলধনী তহবিল প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী পরে সাংবাদিকদের বলেন, বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব আকারে এলে আমার বিবেচনা করব। কাউন্সিলের সহ-সভাপতি দ্য জর্জ টেলিগ্রাফ গ্রুপের এমডি সুব্রত দত্ত এই মঞ্চের সদস্যদের মধ্যে আত্মিক যোগাযোগ নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন। কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা মহেন্দ্র দত্ত অ্যান্ড সন্সের বিজনেস হেড শুভাশিস দত্ত নতুন সরকারের আমলে রাজ্যের শিল্পোন্নয়ন এবং কাউন্সিলের সার্বিক উন্নতির আশা প্রকাশ করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ ছাত্রছাত্রীদের চাকরির পরিবর্তে ব্যবসার জন্য উদ্বুদ্ধ করার কথা বলেন।