অশোকনগরে এ মাসেই তেল উত্তোলন, দেশের সবথেকে উন্নত মানের, প্রস্তুত বাংলা
বর্তমান | ০১ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: চলতি মাসেই উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে বাণিজ্যিকভাবে খনিজ তেল উত্তোলন শুরু করবে ওনজিসি। এর ফলে রাজ্য তো বটেই, জ্বালানি ক্ষেত্রে গোটা দেশেই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। জানা গিয়েছে, অশোকনগরের ওএনজিসি প্রকল্পে মোট সাতটি কূপ খনন করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে অশোকনগর শহরের বাইগাছিতে কুইক প্রোডাকশন সিস্টেমে একটি কূপ থেকেই খনিজ তেল উত্তোলন শুরু হবে। বাইগাছির যে কূপে কাজ চলছে, সেখানে ২৪৫০ মিটার পর্যন্ত খনন কাজ চলবে। ইতিমধ্যেই প্রায় ২,০০৬ মিটার পর্যন্ত খনন হয়েছে। দিনে প্রায় ১৫০ মিটার পর্যন্ত ড্রিলিং করতে পারছেন কর্মীরা। সেই নিরিখে বলা যায়, জুলাইয়ের শেষের দিকেই এখান থেকে তেল উত্তোলন করবে ওএনজিসি।
বাইগাছির এই সেন্টারে প্রথমে যে কূপ খনন করা হয়েছিল, সেখান থেকে প্রত্যাশিত ফল মেলেনি। ফলে নতুন কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেখানে কাজ চলছে। ব্যবহৃত হচ্ছে অত্যাধুনিক অয়েল ড্রিলিং রিগ। রিগের নীচে ব্যবহৃত হচ্ছে শক্ত ধাতু বা হিরের তৈরি ড্রিল বিট, যা ভূপৃষ্ঠের কঠিন অংশ ভেদ করে এগচ্ছে। খনন শেষ হলেই নিয়মিত তেল উত্তোলনের জন্য বসবে পাম্পজ্যাক।
অশোকনগরের তেলের গুণমান নিয়েও যথেষ্ট আশাবাদী ওএনজিসি। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে বাইগাছি কেন্দ্রের পরীক্ষামূলক কূপ থেকে ৩৭৫ ব্যারেল অশোধিত তেল উত্তোলন করা হয়। সেই তেলের গুণমান ভারতের প্রধান উত্তোলক ক্ষেত্র ‘বম্বে হাই’-এর সমতুল তো বটেই, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আরও উন্নতমানের বলেও দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখান থেকে উত্তোলিত তেল পাঠানো হবে হলদিয়ায় ইন্ডিয়ান অয়েলের শোধনাগারে। প্রকল্পটিতে ইতিমধ্যেই কয়েকশো কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বড়ো অঙ্কের বিনিয়োগ করার সম্ভাবনাও রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘ সুউচ্চ পাঁচিল নির্মাণ করা হয়েছে প্রকল্প এলাকায়। এখনও পর্যন্ত মূল কেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তা কাঁচা থাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ও যানবাহন যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। সেই কারণে ওএনজিসি প্রকল্প এলাকা থেকে হাবড়া-নৈহাটি রোড পর্যন্ত সংযোগকারী রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনা করছে প্রশাসন।
তবে সেসবের আগে এখন সমস্ত নজর জুলাই মাসের দিকে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তেল উত্তোলন শুরু করা যায়, তাহলে ইতিহাস তৈরি হবে। বহু বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অশোকনগরের মাটি থেকে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে খনিজ তেল প্রাপ্তির সাক্ষী হবে পশ্চিমবঙ্গ।