টলিপাড়ার অচলাবস্থা কাটাতে অস্থায়ী কমিটি পাপিয়ার, ‘কনফেডারেশনের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক নেই’, জানালেন শমীক
প্রতিদিন | ০১ জুলাই ২০২৬
রাজ্যের পালাবদলের আবহে সিনেপাড়াও একাধিক বদলের সাক্ষী থেকেছে। সেই অচলাবস্থা কাটাতে গত মাসের গোড়ায় পাপিয়া অধিকারী কনফেডারেশনের (Tollywood Confederation) ঘোষণা করেছিলেন। টালিগঞ্জের বিধায়ক জানিয়েছিলেন, “সকলে একছাতার তলায় আসবেন। ফেডারেশনের পুরনো কাঠামোকে পিছনে ফেলে এবার সিনেশিল্প এগোবে নতুন পরিচয়ে— Eastern India Motion Pictures & Cultural Confederation বা EIMPCC-র হাত ধরে।” এবার সেপ্রসঙ্গেই মুখ খুলেছেন শমীক ভট্টাচার্য। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সাফ জানান, “এই ধরনের কোনও সংগঠনের সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই।”
এদিকে শমীকের এহেন মন্তব্যের পরই মঙ্গলবার ফর্ম বিলির সমস্ত টাকা ফেরতের দাবি তোলেন শিল্পী-কলাকুশলীরা। অভিযোগ, অরূপ বিশ্বাসের একটি অফিস দখল করে তিন সপ্তাহ ধরে ৭০০ টাকা করে গিল্ডের সদস্যদের কাছে টলিউডে বিজেপির নয়া সংগঠন কনফেডারেশন বলেই ফর্ম বিক্রি হয়েছে। আসলে ৩ জুন টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে এসে বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী বলেন, “টলিউডে এবার ‘SIR’ শুরু, যোগ্যরা কাজ পাবেন। গিল্ডের বদলে কনফেডারেশনের আওতায় আসবেন সবাই।” তবে মঙ্গলবার পাপিয়া দাবি করেছেন, “অর্থের বিনিময়ে কোনও ফর্ম বিলি করা হয়নি।” যদিও রাজ্য বা দলের অপেক্ষা না করেই টলিউড নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় বিধায়ক হিসাবে তড়িঘড়ি সাতজনের ‘অস্থায়ী কমিটি’ ঘোষণা করেছেন পাপিয়া। সেই কমিটিতে রয়েছেন অভিনেত্রী কাঞ্চনা মৈত্র, পরিচালক অতনু বসু, চিত্রগ্রাহক সোমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, শিল্প নির্দেশক উজ্জ্বল সরকার-সহ আরও তিনজন। তাঁর কথায়, “টালিগঞ্জে খুবই অচলাবস্থা চলছে। ফেডারেশন নেই। যে যেমন খুশি কাজ করছে। স্বরূপ বিশ্বাসের দল এখনও জোরজুলুম করছে। এগুলো বন্ধ হওয়া দরকার। যতদিন না এই অচলাবস্থা ঠিক মতো কাটছে, ততদিন পর্যন্ত এই কমিটি।” পাশাপাশি তিনি এও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে তথ্য সংস্কৃতি বড় পদক্ষেপের কথা ভাবছে। সেই প্রেক্ষিতেই আপাতত শুধুমাত্র টালিগঞ্জের বাসিন্দাদের মধ্যে যাঁরা শিল্পী-কলাকুশলী রয়েছেন, তাঁদের অভাব-অভিযোগের কথাই তিনি শুনছেন।
সেই প্রেক্ষিতেই বিজেপির তরফে প্রশ্ন উঠেছে, কমিটি ঘোষণা করে ঘুরপথে কি সভাপতির বক্তব্যকেই চ্যালেঞ্জ করলেন টালিগঞ্জের বিধায়ক? কারণ সোমবার শমীক জানান, “শুনছি টালিগঞ্জে নাকি কনফেডারেশন নামে একটা সংগঠন হচ্ছে। আমি বলি এই ধরনের কোনও সংগঠন বিজেপির নেই। দলের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।” পালাবদলের পর রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, হিরণ চট্টোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী আপাতত টলিউড ‘দেখতে’ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বিধায়ক রুদ্রনীল জানান, “রাজ্য সভাপতি সঠিক বলেছেন, কনফেডারেশনের কোনও দলীয় স্বীকৃতি, অস্থিত্ব আগেও ছিল না, এখনও নেই। রাজ্য শ্রম আইনকে মর্যাদা দিয়েই টলিউডে স্থায়ী সমাধানে দ্রুত কমিটি গড়ার পথে এগোচ্ছে।” পাকাপাকিভাবে এই সমস্যার সমাধান কবে হয়? এবার নজর থাকবে সেদিকেই।