ভোটের প্রচারে এসে বার বার অন্নপূর্ণা যোজনার কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বলেছিলেন, ‘বাংলায় বিজেপির সরকার তৈরি হলে, অন্নপূর্ণা যোজনায় বাংলার মহিলারা মাসে ৩ হাজার টাকা করে পাবেন।’ কথা রেখেছে বিজেপি সরকার। ১ কোটির বেশি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এখনও অবধি এই টাকা ঢুকেছে বলে বুধবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠান থেকে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নারী ও শিশুকল্যাণ দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মালতি রাভা রায়ও ছিলেন সেই অনুষ্ঠানে। স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, কারা এই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার প্রকৃত দাবিদার।
২৫-৬০ বছর বয়সি পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা এমন মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। তবে শর্ত হলো, তিনি সরকারি চাকরি করতে পারবেন না এবং আয়করদাতা হতে পারবেন না। অবৈধ অভিবাসীরা এই সুবিধা পাবেন না। মন্ত্রী মালতি রাভা রায় বলেন, ‘আমরা চাই, যাঁরা সত্যিই এই টাকা পাওয়ার অধিকারী, তাঁরাই যেন সুবিধা পান। আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে। প্রতি মাসে টাকা ডিরেক্ট বেনেফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটির মাধ্যমে পাঠানো শুরু হয়েছে।’
মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জানান, পোর্টাল খোলা আছে। অনলাইন ও অফলাইন অ্যাপ্লিকেশন নেওয়া চলছে। ডেটা ব্যাঙ্কে সমস্ত তথ্য রাখবেন তাঁরা। মনোজ আগরওয়াল বলেন, ‘নারী ও শিশুকল্যাণ দপ্তর অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে একটা নতুন পোর্টাল তৈরি করবে। সমস্ত নাম সেখানে থাকবে। এলাকা ধরে নামের তালিকা থাকবে। যে নাম রয়েছে, তাতে কোনও ভুল থাকলে, তালিকায় থাকার যোগ্যতা নিয়ে অবজেকশন থাকলে জানাতে পারবেন। এনকোয়ারি হবে দেখা হবে যোগ্য কি না।’
এ দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদনকারীর মধ্যে ২৬ লক্ষ ফর্ম বাতিল হয়েছে। ক্রাইটেরিয়া ফিলআপ না করার জন্য সেগুলি বাতিল করা হয়েছে। বাকি ১ কোটি ৩০ লক্ষের বেশি ঝাড়াই বাছাইয়ে যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন। তবে সরকারের টাকা উপযুক্ত প্রাপকরাই পাবেন, এ দিন আরও একবার সে কথা মনে করিয়ে দেন তিনি। জানিয়ে দেন, সরকারের টাকা কোনও অভারতীয় পেতে পারেন না।