জেলা জুড়ে হাতির আনাগোনা সারা বছর থাকে বাঁকুড়া জেলায়। “হাতি মেরা সাথী” সিনেমাটি যেন রিয়েল লাইফে চলে এই জেলায়। হাতির সঙ্গে সহবাস সাধারণ মানুষের। হাতি সংলগ্ন কিছু কিছু গ্রাম রয়েছে, তাদের কাছে হাতির আনাগোনা খুবই সাধারণ একটি ব্যাপার। তবে এই মুহূর্তে গোটা জেলা জুড়ে রয়েছে মোট ৫ টি হাতি। বর্ষার শুরুতেই আবারও বাঁকুড়া জেলায় বাড়তে শুরু করেছে হাতির গতিবিধি। জঙ্গলমহলের জেলা হিসেবে পরিচিত বাঁকুড়ায় বছরের বিভিন্ন সময়ে হাতির আনাগোনা দেখা গেলেও বর্ষার মুখে সেই সক্রিয়তা আরও বাড়ে।
প্রায় প্রতি বছরই খাবারের সন্ধানে কিংবা চলাচলের স্বাভাবিক পথে হাতির দল জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসে। ফলে জেলার একাধিক এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। বাঁকুড়া উত্তর বনবিভাগের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী ১ জুলাই ২০২৬, সকাল ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত জেলায় মোট ৫টি হাতির অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। বন দফতর জানিয়েছে, বড়জোড়া রেঞ্জের উত্তর সরাগোড়া এলাকায় রয়েছে ১টি হাতি, সাহারজোড়া এলাকায় রয়েছে ৩টি এবং বনসোল এলাকায় রয়েছে আরও ১টি হাতি। বনকর্মীরা প্রতিটি এলাকার পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছেন।
বাঁকুড়া জেলার বড়জোড়া, বেলিয়াতোড়, সিমলাপাল, সারেঙ্গা, পাত্রসায়ের, সোনামুখী-সহ একাধিক এলাকায় অতীতেও হাতির গতিবিধি বহুবার দেখা গিয়েছে। জঙ্গলে ঘেরা এই জেলায় হাতির লোকালয়ে চলে আসা, রাস্তা দখল করে দাঁড়িয়ে থাকা বা চাষের জমিতে নেমে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। তাই বর্ষা শুরুর এই সময়ে হাতির বর্তমান অবস্থানকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে সতর্কতা।
বন দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাঁকুড়া জেলায় হাতির চলাচল নতুন কোনও ঘটনা নয়, বরং জঙ্গলঘেরা এই জেলায় এটি বহুদিনের স্বাভাবিক ও নিয়মিত বিষয়। বছরের বিভিন্ন সময়েই বিভিন্ন রেঞ্জ এলাকায় হাতির গতিবিধি লক্ষ্য করা যায়। তবে পরিস্থিতির উপর বন দফতর নিয়মিত নজর রাখছে এবং বনকর্মীরা এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের শুধু সাধারণ সতর্কতা বজায় রাখার অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে মানুষ ও বন্যপ্রাণ,উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে।