: পূর্ব বর্ধমানের কালনা মহকুমার নতুনগ্রামের ঐতিহ্যবাহী কাষ্ঠশিল্পের জন্য এল বড় সুখবর। বহুদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুনগ্রামের ঐতিহ্যবাহী কাঠের পুতুল এবার পেতে চলেছে বহুল আকাঙ্ক্ষিত জিআই (Geographical Indication) স্বীকৃতি। এই খবর সামনে আসতেই গোটা শিল্পী মহলে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসাহ ও আনন্দের আবহ। দীর্ঘদিন ধরে এই স্বীকৃতির দাবিতে সোচ্চার ছিলেন নতুনগ্রামের কাষ্ঠশিল্পীরা। অবশেষে তাঁদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বলেই আশাবাদী সকলেই। শিল্পী উত্তম ভাস্কর বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই আমরা আবেদন জানিয়ে আসছিলাম জিআই তকমার জন্য। এবার শুনছি সেই তকমা জুটবে। আমরা খুবই খুশি, দারুণ আনন্দ হচ্ছে।”
নতুনগ্রাম বহু দশক ধরে কাঠের পেঁচা, গৌর-নিতাই মূর্তি এবং নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী কাঠের পুতুল তৈরির জন্য দেশ-বিদেশে বিশেষ পরিচিত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শিল্পীরা নিষ্ঠার সঙ্গে এই লোকশিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক নকশার বিভিন্ন কাষ্ঠশিল্প তৈরি হলেও নতুনগ্রামের প্রকৃত পরিচয় আজও তার ঐতিহ্যবাহী কাঠের পুতুল। এখানকার শিল্পকর্ম ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যের পাশাপাশি বিদেশের বাজারেও সমাদৃত হয়েছে।
শিল্পীদের মতে, জিআই স্বীকৃতি মিললে নতুনগ্রামের কাঠের পুতুল সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্বকীয় পরিচয় পাবে। একই সঙ্গে নকল পণ্যের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা মিলবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এই শিল্পের গ্রহণযোগ্যতা ও চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে। ফলে শিল্পীদের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এই স্বীকৃতি নতুন প্রজন্মকে পারিবারিক ঐতিহ্যের এই শিল্পচর্চায় আরও বেশি করে উৎসাহিত করবে বলেও মনে করছেন তাঁরা।
শিল্পী গৌতম ভাস্কর বলেন, “আমাদের খুব আনন্দ হচ্ছে। এই কাঠের পুতুল আমাদের গ্রামের ঐতিহ্য। এরপর কাজের ক্ষেত্রে আমাদের আগ্রহ আরও বাড়বে।” রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরই জিআই স্বীকৃতির এই ইতিবাচক খবর সামনে আসায় নতুন আশায় বুক বাঁধছেন নতুনগ্রামের কাষ্ঠশিল্পীরা। তাঁদের বিশ্বাস, এই স্বীকৃতি শুধু একটি শিল্পের সম্মানই বাড়াবে না, বরং বিশ্বদরবারে নতুনগ্রামের কাষ্ঠশিল্পকে আরও সুদৃঢ় পরিচিতি এনে দেবে এবং গ্রামের অর্থনীতির বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। নতুনগ্রামের শতাব্দীপ্রাচীন এই ঐতিহ্য এবার বিশ্বমানচিত্রে আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে বলেই আশাবাদী শিল্পী থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই।