নদী পাড় থেকে মন্দিরে ঠাঁই, মানসিংহপুরের অভিভাবক রঘুনাথ জিউর মন্দির পুনর্প্রতিষ্ঠায় জনজোয়ার
News18 বাংলা | ০২ জুলাই ২০২৬
: প্রায় ৪০০ বছর আগে নদী পাড়ে চাষের জমিতে লাঙলের ফলায় উঠেছিলেন রঘুনাথ জিউ, সেই থেকে গ্রামের মানুষকে রক্ষা করে চলেছেন রঘুনাথ জিউ, এমনটাই বিশ্বাস স্থানীয় মানুষের! গ্রামে শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই ভক্তি ভরে প্রভুর আরাধনায় মেতে ওঠে। প্রতিদিন নিত্য সেবার পাশাপাশি বছরে একদিন বিশেষ পুজোর আয়োজন হয়। বাৎসরিক পুজো উপলক্ষে গ্রামের মানুষ উৎসব পালন করে।
হাওড়ার মানসিংহপুর গ্রামের জাগ্রত রঘুনাথ জিউ। কয়েক দশক পর প্রাচীন মন্দির সংস্করণ কেন্দ্র করে গ্রামের মানুষ এক হয়েছেন। গ্রামে মন্দির পুনঃসংস্করণ কেন্দ্র করে উৎসব আলোয় সেজেছে গ্রাম। সেই সময়ে গ্রামের গা ঘেঁষে থাকা গৌরী গাং নদী ছিল জলে ভরা। গ্রামে তখন অধিকাংশ কৃষক পরিবার। নদীর দুই পাড় উর্বর জমি, সেই জমিতে হাল করার সময় লাঙ্গলের ফলায় মাটি খুঁড়ে ওঠে ক্ষুদ্র শালগম শিলার পাথর মূর্তি। প্রবীণ ছয় ব্যক্তি সেই পাথর মূর্তি তুলে নিয়ে আনেন গ্রামে। তৎকালীন গ্রামের মান্না পরিবারের কর্তারা রঘুনাথ জিউর মূর্তি মন্দির নির্মাণ করে রঘুনাথ জিউর শিলা মুর্তি প্রতিষ্ঠা করেন। যদিও মন্দির প্রতিষ্ঠার নির্দিষ্ট সময়কাল জানা যায়নি, লোকমুখে কথিত রয়েছে চার শতাব্দীর বেশি প্রাচীন।
স্থানীয় মানুষের কথায়, রঘুনাথ জিউ গ্রামের মানুষের কাছে অভিভাবক সম। বর্তমান সময়েও প্রাচীন রীতি মেনে শ্রী শ্রী প্রভু রঘুনাথ জিউর নিত্য সেবা এবং বাৎসরিক জন্মাষ্টমী পুজো অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামের আট থেকে আশি বয়সের মানুষ পুজোয় অংশগ্রহণ করেন এবং মান্না পরিবারের কাছে রঘুনাথ জিউ কুল দেবতা। গ্রামবাসীদের কথায় রঘুনাথ জিউর কৃপায় গ্রামের মানুষের বিপদ থেকে মুক্তি ঘটে। বিবাহ থেকে অন্নপ্রাশন যেকোনও শুভ কাজের আগে রঘুনাথ জিউর কাছে পুজো নিবেদন গ্রামের প্রাচীন রীতি, সেই রীতি বর্তমান সময়েও অক্ষত রয়েছে।
কয়েক দশক পর আবারও গ্রামের মানুষ এক হয়ে রঘুনাথ জিউর মন্দির সংস্করণ করে উৎসবে মেতেছে। জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রার দিন দক্ষিণ মানসিংহপুর গ্রামে উত্তরখান্ডের মহারাজের উপস্থিতিতে রঘুনাথ জিউআর মন্দির পুনঃসংস্কার প্রতিষ্ঠা হয়। গ্রামের মানুষের উপোস, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, পুজো হোম-যজ্ঞ হয়। পরদিন অন্নকূট উৎসব এবং অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। কয়েকদিনের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে গ্রামে ঘরে ঘরে আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতি।