• ‘মহুয়া একটু বেশিই নাটক করেন’, ডিম ছোড়া নিয়ে কৃষ্ণনগরের সাংসদকে তীব্র কটাক্ষ ঋতব্রতর
    এই সময় | ০২ জুলাই ২০২৬
  • তাঁকে লক্ষ্য করে বিজেপি ডিম ছুড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূল (মমতাপন্থী) সাংসদ মহুয়া মৈত্র। শুধু অভিযোগই করেননি, পুরো ঘটনার ভিডিয়ো করে সমাজমাধ্যমে পোস্টও করেছেন তিনি। এই নিয়ে পাল্টা মহুয়াকেই তীব্র কটাক্ষ করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে কিছুটা কটাক্ষের সুরে বলে দিলেন, ‘মহুয়া একটু বেশিই নাটক করেন।’ একই সঙ্গে তাঁরাই ‘আসল তৃণমূল’ বলেও দাবি করেন ঋতব্রত।

    বিদ্রোহী শিবিরের তৃণমূল বিধায়কদের সঙ্গে নিয়ে দিল্লি যাচ্ছেন ঋতব্রত। আগামী কাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করবেন তাঁরা। সেখানেই ঋতব্রতরা নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল বলে দাবি জানাতে পারেন বলে ওয়াকিবহাল মহল সূত্রে খবর। তার আগে এ দিন দিল্লিতে মহুয়াকে নিয়ে প্রশ্নের জবাবে কৃষ্ণনগরের সাংসদকে কটাক্ষ করলেন তিনি।

    ঋতব্রত সরাসরি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মহুয়া একটু বেশিই নাটক করেন। তাঁর সম্পর্কে যত কম বলা যায়, ততই ভালো।’ এখানেই থামেননি তিনি। মহুয়াকে সংসদ থেকে বহিষ্কারের প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি। কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘মহুয়াকে কেন সংসদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, তা সবাই জানেন।’ উল্লেখ্য, মহুয়া ব্যবসায়ী দর্শন হিরানন্দানির কাছ থেকে টাকা নিয়ে সংসদে শিল্পপতি গৌতম আদানিকে নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। গোটা ঘটনার তদন্ত করে এথিক্স কমিটি। অনৈতিক আচরণ এবং সংসদের অবমাননার দায়ে তাঁকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়। শেষ পর্যন্ত লোকসভায় প্রস্তাব পাস হলে মহুয়া মৈত্রকে সাংসদ পদ থেকে বরখাস্ত করে কেন্দ্রীয় সরকার।

    তৃণমূলের ফলাফল নিয়ে কটাক্ষ করেন ঋতব্রত। সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, ‘২৯১টি আসনেই তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ সামনে রেখে ভোট চাওয়া হয়েছিল। তা হলে বাকি আসনগুলোর কী হল? এর কোনও যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা নেই।’ তৃণমূলের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘এই দল একসময় সত্যিই তৃণমূল স্তরের মানুষের দল ছিল। কিন্তু এখন সেই দলকে ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে।’

    উল্লেখ্য, এ দিন নদিয়ার কালীগঞ্জের পলাশিতে বিধায়ক আলিফা আহমেদের বাড়িতে তৃণমূলের একটি বৈঠক ছিল। সেখানেই হাজির ছিলেন মহুয়া। সেই সময়েই বাড়ির নীচে কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। দেওয়া হয় ‘গো ব্যাক স্লোগান’। শুরু ডিম বৃষ্টি সঙ্গে চোর স্লোগান। মহুয়ার অভিযোগ, প্রত্যেকেই বিজেপি কর্মী। নিজেই সমাজ মাধ্যমে লাইভ ভিডিয়ো করেন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে হাজির হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া ব্যবস্থা করা হয়।

  • Link to this news (এই সময়)