ধূপগুড়িতে সর্পাঘাতে এক সপ্তাহে মৃত ৩, প্রতিদিনই বাড়ছে দংশিতের সংখ্যা
বর্তমান | ০২ জুলাই ২০২৬
সংবাদদাতা, ধূপগুড়ি: বর্ষার শুরুতেই ধূপগুড়ি মহকুমাজুড়ে বেড়েছে সাপের উপদ্রব। গত এক সপ্তাহে সাপের ছোবলে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। প্রায় প্রতিদিনই সাপের কামড়ে আক্রান্তদের ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। পরিস্থিতিতে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
মঙ্গলবার রাতে ডাউকিমারির নমিতা রায় খড়ের গাদা থেকে খড় আনতে গিয়ে বিষধর সাপের ছোবলে গুরুতর অসুস্থ হন। তাঁকে প্রথমে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু হাসপাতাল যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এছাড়া ওই রাতে গাদং-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাবলু রায়, ধূপগুড়ি পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কল্পনা সরকার এবং ডাউকিমারির হাসপাতালপাড়ার শংকর অধিকারী সাপের কামড়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনদিন আগে লক্ষ্মীকান্ত চা বাগানের শ্রমিক লাইনে উঠোনে খেলার সময় সাপের ছোবলে মৃত্যু হয় চার বছরের আনমল লাকড়ার। এর আগে ২৫ জুন কালীরহাট পারকুমলাই এলাকায় স্কুল থেকে ফিরে রান্নাঘরে থালা রাখতে গিয়ে সাপের কামড়ে প্রাণ হারায় আট বছরের ছাত্রী সান্ত্বনা রায়।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার ধূপগুড়ি শহরের একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩৫টি গোখরো সাপের বাচ্চা। যদিও ময়নাগুড়ির একটি পরিবেশ প্রেমী সংগঠনের সদস্য পরিতোষ রায় বলেন, বর্ষাকালে অসচেতনতা ও অসাবধানতার কারণেই অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে। খড়ের গাদা, ঝোপঝাড়, রান্নাঘর বা অন্ধকার জায়গায় হাত দেওয়ার আগে সতর্ক থাকতে হবে।
ধূপগুড়ির বিএমওএইচ ডাঃ অঙ্কুর চক্রবর্তী জানান, সাপে কামড়ালে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে আনতে হবে। ঝাড়ফুঁক বা ওঝার কাছে না গিয়ে অবিলম্বে চিকিৎসা শুরু করলে প্রাণ বাঁচানোর সম্ভাবনা অনেকটা বেড়ে যায়।
ধূপগুড়ি হাসপাতাল সূত্রে খবর, এখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টি স্নেক ভেনম (এএসভি) মজুত রয়েছে।