• মায়াপুরে দখলদার উচ্ছেদের নোটিস, সাতদিনে না সরলে চলবে বুলডোজার
    বর্তমান | ০২ জুলাই ২০২৬
  • সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: মায়াপুরে উচ্ছেদ অভিযানে নামছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই নোটিস ধরানো হয়েছে দখলদারদের। সময় দেওয়া হয়েছে সাতদিন। এর মধ্যে সরে না গেলে বুলডোজার দাওয়াই শুরু হবে। রাস্তা দখল করে থাকা দোকানের পাশাপাশি মন্দিরের বেআইনি ভাঙা অংশকেও বাদ দেওয়া হবে না বলে নোটিসে জানান হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই নোটিস পেয়ে রুজিরুটির হারানোর আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা। বেশ কিছু মঠ ও মন্দিরের বেআইনি অংশ ভাঙা পড়তে পারে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন মন্দির পরিচালন কর্তৃপক্ষ। তাঁরা বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামীর দ্বারস্থ হয়েছেন। সবার স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানান বিধায়ক। আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্রে পূর্ত দপ্তর (সড়ক বিভাগ) ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে সরকারি রাস্তা, নর্দমা ও নয়ানজুলি দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই কৃষ্ণনগর হাইওয়ে সাব-ডিভিশনের পূর্ত দপ্তর  সরকারি জমি দখল করে থাকা ব্যক্তি ও  ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে সাত দিনের মধ্যে স্বেচ্ছায় জায়গা খালি করার নোটিস জারি করেছে।

    পূর্ত দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মায়াপুরের রাস্তার দু’ধারে নর্দমা, নয়ানজুলি এবং সরকারি জমি জবরদখল করে যাঁরা দোকান, অস্থায়ী নির্মাণ বা বসতি গড়ে তুলেছেন, তাঁদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেখান থেকে সরতে বলা হয়েছে। অন্যথায় প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালাবে।

    এদিকে, প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগেও একাধিকবার মাইকে প্রচার করে রাস্তা থেকে অবৈধ দোকান ও সরকারি জমি খালি করার আবেদন জানানো হয়েছিল। কয়েকজন ব্যবসায়ী স্বেচ্ছায় দোকান সরালেও এখনো বহু দোকানদার সরকারি জমি দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    সূত্রের খবর, প্রথম পর্যায়ে গৌরনগর মোড় থেকে ইসকনের মূল গেট হয়ে হুলোর ঘাট পর্যন্ত রাস্তার ধারে থাকা দখলদারদের সরানোর কাজ শুরু হবে। 

    স্বরূপগঞ্জ বাসিন্দা নীহারিকা দেবনাথ বলেন, ২০ বছর ধরে ফুটপাতে চায়ের দোকান করি। মঙ্গলবার পিডব্লিউডি থেকে নোটিস দিয়ে গিয়েছে দোকান তুলে নিতে হবে।  সংসার চলবে কীভাবে জানি না। 

    মায়াপুরে ঠাকুরের সরঞ্জামের দোকান শম্ভু হালদারের। তিনি  বলেন, আমরা সবাই বিধায়কের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি বললেন, নোটিস দিয়েছে জানি।  বিধায়ক ও সাংসদকে একটা লিখিত দিন। 

    মায়াপুর হুলোর ঘাটের শ্রীরূপানুগ ভজনাশ্রম রাধা শ্যামসুন্দর মন্দিরের অধ্যক্ষ ভক্তি সাধন তৎপর মহারাজ বলেন, আমাদের মন্দির প্রায় ৫০ বছরের পুরানো। আগে এই জমির কিছু অংশ জেলা পরিষদের ছিল, পরে পূর্ত দপ্তরের কাছে হস্তান্তর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার পিডব্লিউডি, জেলা পরিষদ ও পুলিশের উপস্থিতিতে সাত দিনের মধ্যে মন্দিরের অংশ ভেঙে সরিয়ে নেওয়ার নোটিস দেওয়া হয়েছে, না হলে বুলডোজার দিয়ে ভাঙা হবে বলে জানানো হয়েছে।

    শ্রীমায়াপুর হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক প্রদীপ কুমার দেবনাথ বলেন, মায়াপুরের রাস্তার দু’পাশে অধিকাংশ হোটেলেরই কিছু অংশ পূর্ত (পিডব্লিউডি) দপ্তরের জমিতে রয়েছে। কিছুদিন আগেই রাস্তা ও নিকাশি নালার কাজের সময় ভাঙচুর করা হয়েছিল। তখন পূর্ত দপ্তরের তরফে কাজ শেষের পর হোটেল মালিকরা নিজেদের মতো করে প্রয়োজনীয় অংশ পুনর্নির্মাণ করেন। এখন ফের উচ্ছেদের নোটিস জারি হওয়ায় সংকট বাড়ল। বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামী বলেন এই অভিযানে কিছু মঠ-মন্দির ও দোকানের অংশ ভাঙা হতে পারে। উন্নয়ন যেমন প্রয়োজন, তেমনি সাধারণ মানুষের রুটি-রুজি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্বার্থও  সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখার  জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাব।
  • Link to this news (বর্তমান)