• বলরামপুর কলেজের অশিক্ষক কর্মীকে ‘জাত’ তুলে অপমান, অভিযুক্ত অধ্যক্ষা
    বর্তমান | ০২ জুলাই ২০২৬
  • সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: দীর্ঘদিন ধরে বলরামপুর কলেজের এক অশিক্ষক কর্মীকে ‘জাত’ তুলে অপমান করার অভিযোগ উঠল ওই কলেজেরই অধ্যক্ষার বিরুদ্ধে। এমনকি, তফসিলি জাতির হওয়ায় ওই অশিক্ষক কর্মচারীকে অধ্যক্ষের অফিস রুমে ঢুকতে বাধা দেওয়া হত বলে অভিযোগ। বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা না হওয়ায় তিনি গোটা বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় এসটি-এসসি কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বলরামপুরের শিক্ষামহলে শোরগোল পড়েছে। যদিও কলেজের অধ্যক্ষা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    বলরামপুর কলেজের পদার্থবিদ্যা বিভাগের ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট পদে কর্মরত রয়েছেন বিশ্বনাথ রুহিদাস। সম্প্রতি তিনি কলেজের অধ্যক্ষার বিরুদ্ধে জাতীয় এসটি এসসি কমিশনে অভিযোগ করেছেন। বিশ্বনাথবাবু বলেন, কলেজের অধ্যক্ষা আমাকে অচ্ছুতের মতো ব্যবহার করতেন। অধ্যক্ষার রুমে গেলেও বলতেন ‘তোর এখানে কী বটে? চল, বেরিয়ে যা।’ ২০২১ সাল পর্যন্ত এবিষয়ে অনেক সহ্য করেছি। পরে টিচার্স কাউন্সিলে জানানোর পর তাঁদের পরামর্শ মতো সম্প্রতি জাতীয় এসটি এসসি কমিশনে অভিযোগ করি। ওই অভিযোগের পর অধ্যক্ষা বাড়িতে গিয়ে অভিযোগ তোলার জন্য হুমকিও দেন। এমনকি, টাকার প্রলোভনও দেন। তা নিতে অস্বীকার করাতেই পেনশন আটকে দেওয়ার হুমকি দেন। সমাজের নিচুতলার মানুষ আমরা। সংবিধানে কোনো নিয়ম না থাকলেও সমাজে পরিবেশগতভাবে আমাদের ঘৃণা করা হয়। একজন অধ্যক্ষ হয়ে উনি কী করে একরম আচরণ করেন? 

    কলেজের এক অধ্যাপিকা বলেন, বলরামপুর কলেজের সমস্যার কথা সবাই জানে। বিশ্বনাথবাবুর অভিযোগের বিষয় জানি। তৎকালীন সময়ে জিবি মেম্বার থাকায় বিষয়টি আমাদের কাছেও এসেছিল। বিশ্বনাথবাবুর সঙ্গে গত বছর জানুয়ারি মাসে দু’টি ঘটনা ঘটে। বিশ্বনাথবাবু বিভিন্ন জায়গায় বিষয়টি জানিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি। এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য টিচার্স কাউন্সিলকে অনুরোধও করেছিলাম। 

    কলেজের অধ্যক্ষা অনন্যা ঘোষ বলেন, উনি কেন এধরনের অভিযোগ করছেন জানি না। হয়তো কোনো চক্রান্ত চলছে। আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। বিশ্বনাথবাবুর পেনশনের কাজ তো আমি নিজেই করে দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, বলরামপুর কলেজে ২৭ বছর চাকরি করছি। এরকম মিথ্যা অভিযোগ করা হবে ভাবতে পারিনি। বিশ্বনাথবাবু কলেজে সবসময় ‘রাউডি’ ব্যবহার করেন। ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট হয়েও সাধারণ স্টাফরুমে বসতে চান। সেখানে বসে আবার জোরে সাউন্ড দিয়ে মোবাইলে বিভিন্ন রকম রিলস দেখেন। এসবই বারণ করা হয়েছিল। 

    সেসময় অধ্যক্ষের রুমে এসে আমাকে ঘুষি মারতে চেষ্টা করেছিল। বলরামপুর থানার পুলিশও এসেছিল। তবে মানবিকতার খাতিরে সেই সময় এফআইআর করিনি। তারই প্রতিদান পাচ্ছি এখন।
  • Link to this news (বর্তমান)