• সব্যসাচীর আমলে মিউটেশনে অতিরিক্ত টাকা, বিধাননগর পুরসভাকে নথি পেশের নির্দেশ হাইকোর্টের
    বর্তমান | ০২ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার মিউটেশনের নামে বাড়তি টাকা তোলার অভিযোগ উঠল বিধাননগর পুরসভার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, রাজ্য সরকারের অনুমতি না থাকলেও বাড়ির মিউটেশনের নামে দিনের পর দিন বাড়তি টাকা তোলা হয়েছে। এই অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় পুরসভার কাছে মিউটেশন বাবদ নেওয়া বাড়তি টাকার যাবতীয় নথি তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। শুধু তাই নয়, বাড়তি টাকার হিসাব নিয়েও বুধবার প্রশ্ন তোলে বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর সিঙ্গল বেঞ্চ। ঘটনাচক্রে এই ঘটনার সঙ্গেও জড়িয়েছে তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তের নাম। 

    ২০১৭-’১৮ অর্থবর্ষ সময়কালে বিধাননগরের মেয়র ছিলেন সব্যসাচী দত্ত। সে সময় পুরসভায় আর্থিক অনটনের যুক্তি দেখিয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন পুরবোর্ড। অভিযোগ, সব্যসাচী দত্তর নির্দেশে নিয়ম ভেঙে মিউটেশন বাবদ বাড়তি টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বোর্ড মিটিংয়ে। তার পরের বছর বিধাননগর পুরসভার বাজেটে একাধিক খাতে খরচ বৃদ্ধির প্রসঙ্গের উল্লেখ রয়েছে। লিখিতভাবে জমি হস্তান্তর বাবদ ০.৮ শতাংশ লেভি বৃদ্ধি করা হয়। মিউটেশন বাবদ বাড়তি টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়। এরপর মিউটেশন বাবদ অগুনতি মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা তোলা হয়। পরবর্তীকালেও বাড়তি টাকা তোলার সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। ওই বাড়তি টাকা আদৌও কি পুরসভার ভাঁড়ারে জমা পড়েছে? তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বর্তমান মামলায়। এর ফলে বিগত তৃণমূল সরকারের আমলের নানা দুর্নীতির অভিযোগের সঙ্গে বাড়ির মিউটেশনের নামে বাড়তি টাকা তোলার ঘটনাও নতুন করে সংযোজিত হয়েছে বলে দাবি মামলাকারীর।

    মামলাকারীর আইনজীবী অরিন্দম দাস বলেন, ‘সল্টলেক সেক্টর ফাইভের যে বহুতলের মিউটেশনের নামে বাড়তি টাকা তোলার অভিযোগে এই মামলা, সেখানে ভ্যালুয়েশন অনুযায়ী, যে ফ্ল্যাটের জন্য ৩০০ টাকা দেওয়ার কথা, তার থেকে প্রায় দু’লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির নজির। শুধু বিধাননগরই নয় কলকাতা পুরসভা ছাড়া রাজ্যের প্রায় সব পুরসভা মিউটেশনের নামে নাগরিকদের থেকে বাড়ি, ফ্ল্যাট বা অন্য কোনো নির্মাণের জন্যে মোটা টাকা আদায় করেছে বলেও অভিযোগ।

    বিচারপতি বসু চৌধুরি বলেন, ‘আগের রাজ্য সরকার লিখিতভাবে জানিয়েছিল, সরকার মিউটেশনের সঙ্গে এমন লেভি তোলার কোনো অনুমোদন দেয়নি। নতুন সরকারও রিপোর্ট দিয়ে সে কথা জানিয়েছে।’ বিচারপতি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘তাহলে এত বছর ধরে যে টাকা তোলা হয়েছে তার হিসাব কোথায়?’ নির্দেশে বিচারপতি উল্লেখ করেন, এত বছর ধরে কত টাকা তোলা হয়েছে তার হিসাব পাওয়া উচিত। এরপরই রাজ্য ও পুরসভাকে আগামী মঙ্গলবার টাকা তোলা সংক্রান্ত যাবতীয় নথি নিয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি। মঙ্গলবারই এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
  • Link to this news (বর্তমান)