• ১ কোটি ৩০ লক্ষ ‘অন্নপূর্ণা’র অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা, অভিযোগ হলেই যাচাই, ভাতা বন্ধ
    বর্তমান | ০২ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তার ‘যোগ্যতা’ নিয়ে সন্দেহ হলে যে কোনো নাগরিক পোর্টালে অভিযোগ জানাতে পারবেন। আর সেই অভিযোগের যদি এতটুকু সারবত্তা থাকে, তাহলে বন্ধ হয়ে যাবে টাকা। বুধবার দ্ব্যর্থহীন ভাষায় একথা জানিয়ে দিল রাজ্য সরকার। এদিন নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে ১ কোটি ৯ লক্ষ ৫৩ হাজার ৩৭৮ মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা করে পাঠানোর কর্মসূচি ছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। সেখানেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কোনো ‘অযোগ্য’ উপভোক্তা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। শুভেন্দু বলেন, ‘রাজ্যের টাকা কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়। এটা সরকারের টাকা। ফলে তা উপযুক্ত মানুষ পাবেন, এটাই আমরা বিশ্বাস করি‌। ভারতীয় নন, বা যোগ্যতা নেই, এমন কেউ রাজ্যের প্রকল্পের টাকা পাবেন না।’ এসআইআর ট্রাইবুনালে যাঁদের আবেদনের এ পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়নি এবং যাঁরা সিএএ’র মাধ্যমে নাগরিকত্বের জন্য আরজি জানিয়েছেন, তাঁদের অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে বাধা নেই বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, বাংলার বিজেপি সরকার ‘লোকধর্ম’ পালন করছে। তাই কেউ ভুলবশতও যদি প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে যান, তা ‘শুধরে’ নেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে একটি নির্দিষ্ট পোর্টাল রাজ্য চালু করবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। বলেছেন, এই পোর্টালে প্রত্যেক গ্রাম পঞ্চায়েত বা পুর এলাকার ওয়ার্ডভিত্তিক উপভোক্তার নাম থাকবে। তাঁদের কাউকে অযোগ্য মনে হলে সাধারণ মানুষ ওই পোর্টালেই অভিযোগ জানাতে পারবেন। সেই আপত্তি যাচাই করে একমাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেই মহিলা আদৌ অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার যোগ্য কি না। ভুল না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া স্বাভাবিক ছন্দেই চলতে থাকবে। কেন বছরভর এই যাচাই? উত্তর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীই। বলেছেন, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ক্ষেত্রে ২৭ লক্ষ এমন নাম পেয়েছিলাম, যাঁরা ভারতীয় নন এবং নাম পেয়েছি ১০ লক্ষ পুরুষেরও।’

    মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। তার মধ্যে ২৬ লক্ষ বাতিল হয়েছে। ১ কোটি ৯ লক্ষ ৫২ হাজার ৩৭৮ জনকে টাকা দেওয়া হয়েছে মঞ্চ থেকে। আরও ২০ লক্ষের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে রাত ১২টার পর। যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতা পাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে তফসিলি জাতি ২৬ লক্ষ ৬৩ হাজার ৫৫৫, উপজাতি প্রায় ৪ লক্ষ ৯০ হাজার এবং পাহাড়ি এলাকার উপভোক্তা ১ লক্ষ ২২ হাজার ৬২৮ জন। তিনি আরও জানান, আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন করা যাবে। এই আবেদনের ফলে অন্যান্য প্রকল্পের ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। 

    এদিন নারী সুরক্ষা নিয়েও একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, ছাত্র-ছাত্রী এবং কন্যাদের কোনো প্রকল্প বন্ধ হবে না। আগামী কাল থেকে সব থানায় চালু হয়ে যাবে মহিলা হেল্পডেস্ক। মহালয়ায় সূচনা হবে ‘ডায়াল ১১২’র। উত্তরপ্রদেশ, গুজরাতে অভিযোগ পাওয়ার ৯ মিনিটের মধ্যে পুলিশ পৌঁছায়। এখানে সেটা তিন ঘণ্টা। ডায়াল ১১২ চালু হলে এই সমস্যা মিটবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। মহিলা সরকারি কর্মচারী, যাঁরা বিনামূল্যে বাসে চাপতে অস্বীকার করছেন, তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মালতী রাভা রায়, অগ্নিমিত্রা পাল সহ একাধিক মন্ত্রীর পাশাপশি তৃণমূলের পাঁচ মহিলা বিধায়কও (শিউলি সাহা, প্রিয়া পাল, সাবিনা ইয়াসমিন, নীলিমা মিস্ত্রি এবং সঙ্গীতা বসুনিয়া) উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে। শেষে তাঁদের কাছে এসে সৌজন্য সাক্ষাৎও করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘আমরা এ পক্ষ-ও পক্ষ করি না। সবাইকেই ডেকেছি।’
  • Link to this news (বর্তমান)