ঋতভাষ চট্টোপাধ্যায়
তারাপীঠ মন্দিরে ভক্তরা যাতে কোনও সমস্যায় না পড়েন তার দিকে বিশেষ নজর দেবে মন্দির কমিটি। দীর্ঘ ১৫ বছর পরে বদল হয়েছে তারাপীঠ মন্দির কমিটির। ওই কমিটি বদল হতেই একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন মন্দির কমিটি। আগামী দিনে আর কেউ কখনই মা তারা-কে স্পর্শ করতে পারবেন বলে ঠিক হয়েছে। সেই সঙ্গেই বিশেষ লাইনেও বেঁধে দেওয়া হবে পুণ্যার্থীদের সংখ্যা। মন্দিরের বাইরে থেকেই যাতে ভক্তরা মায়ের মূর্তি ভালো করে দেখতে পারেন সেই জন্য তারাপীঠ মন্দিরের গর্ভগৃহ এক ফুট নীচু হতে পারে বলেও ঠিক হয়েছে।
এমনিতেই তারাপীঠ মন্দির এবং আশেপাশের এলাকা নিয়ে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই ক্ষেত্রে কড়া অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। আর এ বার তারাপীঠ মন্দির নিয়ে একগুচ্ছ নিল মন্দির কমিটি।
জানা গিয়েছে এর আগেই প্রায় ১৫ বছর আগে তৈরি হওয়া কমিটি নির্বাচনের আগে পর্যন্ত একাধিপত্য কায়ম করে রেখেছিল। ওই আমলে তারাপীঠ মন্দির নিয়ে উঠেছিল একাধিক অভিযোগ। তবে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পালাবদলের পরে তারাপীঠ মন্দিরের দায়িত্বভার গ্রহণ করল নতুন কমিটি। মূলত এই কমিটির সদস্য হচ্ছেন তারাপীঠ মন্দিরের সেবাইতরাই।
ওই কমিটির সভাপতি হিসেবে নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়-কে এবং সম্পাদক হিসেবে পুলক চট্টোপাধ্যায়-কে নির্বাচিত করা হয়েছে। এর পরেই বুধবার বৈঠকে বসে ওই কমিটি। সেখানেই পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে তারাপীঠ মন্দিরের গর্ভগৃহ এক ফুট নীচু করা, সাধারণ পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে বিশেষ লাইনের পুণ্যার্থীদের সংখ্যা বেঁধে দেওয়া এবং ভিআইপি থেকে সাধারণ পুণ্যার্থী, কেউ যাতে গর্ভগৃহে বেশি সময় অতিক্রান্ত না করেন তার নিশ্চিত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্দির কমিটির সভাপতি জানিয়েছেন, সাধারণ পুণ্যার্থীদের জন্য আধঘন্টা এবং বিশেষ বা ভিআইপি লাইনে থাকা জন্য কুড়ি মিনিট চলবে লাইন। আগামী দিনে বিশেষ লাইনে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের জন্য মন্দিরের ঢোকা এবং বাইরে আসার জন্য একটি নির্দিষ্ট গেট করার পরিকল্পনাও আছে। এ ছাড়াও সাধারণ পুণ্যার্থীরা যাতে বাইরে থেকেই মায়ের মুখ দর্শন করতে পারেন তার জন্য গর্ভগৃহের উচ্চতা এক ফুট নীচু করার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও মা তারার প্রতিমা থাকবে উঁচুতেই। এতে যেমন বাইরে থেকে মায়ের মুখ দর্শন করা যাবে পাশাপাশি মাকে স্পর্শ করা থেকেও সকলকে বিরত রাখা যাবে বলেও জানিয়েছেন নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়। এর ফলে সাধারণ ভক্তদের সুবিধা হবে।
কৌশিকী অমাবস্যার পরে তারা মায়ের বিগ্রহকে অন্য কোথাও সরিয়ে নিয়ে গর্ভগৃহের কাজ করার পরিকল্পনা করাও হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
নতুন কমিটিকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন মন্দির কমিটির প্রাক্তন সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায়।