• শুভেন্দুর জন্য পাহাড়ে এই প্রথম সিভিল হেলিকপ্টার, দরজা খুলল পর্যটনের, দাবি কর্তাদের
    এই সময় | ০২ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়: একে কি মাইলস্টোন বলা যেতে পারে!

    এতদিন পশ্চিমবঙ্গের পাহাড়ের কোল থেকে সেনা হেলিকপ্টার নামা–ওঠা করলেও, সিভিল বা অসামরিক হেলিকপ্টার নামেনি। বাগডোগরা থেকে এক সময়ে দার্জিলিং পর্যন্ত সাধারণ হেলিকপ্টারে যাত্রী পরিষেবার পরিকল্পনা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। সাধারণ সিভিল হেলিকপ্টারের জন্য পাহাড়ে কখনও গড়ে ওঠেনি স্থায়ী হেলিপ্যাডও।

    এ বারে সেই মাইলস্টোন ছোঁয়া গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরেই। ১৬ জুন, বুধবার তিনি কার্শিয়াং থেকে বাগডোগরা ফিরেছেন রাজ্য সরকারের হেলিকপ্টারে। যেটা সাধারণ সিভিল হেলিকপ্টার। বাগডোগরা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কার্সিয়াং যাওয়ারও কথা ছিল ওই হেলিকপ্টারে। কিন্তু, সকালে আকাশ বাধ সেধেছিল। মুখ্যমন্ত্রী সড়কপথে কার্শিয়াং যান। পরে আকাশ পরিষ্কার হতে তাঁকে ফিরিয়ে আনতে বাগডোগরা থেকে উড়ে যায় রাজ্যের ভাড়া নেওয়া এয়ারবাস এইচ১৪৫ হেলিকপ্টারটি। অনুষ্ঠান শেষে সেটিতে করে বাগডোগরা ফেরেন শুভেন্দু। আর তারপর থেকেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে, তা হলে পাহাড়ের পর্যটনের কথা মাথায় রেখে হেলিকপ্টারে কেন নিয়মিত যাত্রী পরিষেবার সুবিধে তৈরি হবে না?

    দার্জিলিং–কালিম্পং–কার্সিয়াং ঘিরে পর্যটনের রমরমা বহুদিনের। পাহাড়ের লেবং–এ সেনা ছাউনিতে নিয়মিত হেলিকপ্টার ওঠা–নামা করে। সেখানে স্থায়ী হেলিপ্যাড রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা পাহাড়ে যাতায়াতের সময়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেনা হেলিকপ্টারে করে ওই লেবংয়েই নামাওঠা করেন। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহুবার পাহাড়ে গেলেও সড়কপথেই যাতায়াত করেছেন বলে নবান্নের একটি সূত্র জানিয়েছে। তৃণমূল জমানার আগে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কখনও সে ভাবে হেলিকপ্টার ব্যবহার করেননি। কিন্তু, ক্ষমতায় আসার পরে রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কখনও ছুটে কখনও উড়ে বেড়াচ্ছেন শুভেন্দু। এ বার তাঁর পাহাড় সফরের জন্য তাই কার্সিয়াংয়ের কোচরান প্যালেস হোটেলের পাশের মাঠে একটি অস্থায়ী হেলিপ্যাড বানানো হয়েছিল। সেটি সেনারই জায়গায়। সেনারই অনুমতিক্রমে সেখানে বানানো হয় হেলিপ্যাড।

    নবান্নের এক কর্তার কথায়, ‘কোচরান প্যালেসের পাশে স্থায়ী হেলিপ্যাড বানানো যাবে না। কার্সিয়াংয়ে স্থায়ী হেলিপ্যাডের জন্য পরে জায়গা খোঁজা হবে।’ জানা গিয়েছে, দার্জিলিংয়ে ধোতরেতে ইতিমধ্যেই স্থায়ী হেলিপ্যাডের জন্য জায়গা চিহ্নিত হয়েছে। কালিম্পংয়ের মংসুং–এও জায়গা ঠিক হয়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি, সেখানে রাজ্যের পূর্ত দপ্তর প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে। আগামী দিনে স্থায়ী হেলিপ্যাড বানাতে টেন্ডার করতে চলেছে তারা।

    হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজ়ম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যালের কথায়, ‘পাহাড়ে সিভিল হেলিকপ্টার চালু হলে লাক্সারি ট্যুরিজ়মের ক্ষেত্রে বিপুল লাভ হবে। এ ছাড়াও অনেক সময়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে উদ্ধারকাজেও কাজে লাগানো যেতে পারে হেলিকপ্টারকে।’

  • Link to this news (এই সময়)