• অন্নপূর্ণায় লোকধর্ম পালন করবে রাজ্য, মত মুখ্যমন্ত্রীর
    এই সময় | ০২ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়: ভোটার তালিকায় নাম বাদ গেলেও শরণার্থী হিসেবে কোনও মহিলা সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ-তে আবেদন করে থাকলে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন। এই প্রসঙ্গে ‘লোকধর্ম’ পালনের কথা শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    বুধবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ১ কোটি ৯ লক্ষেরও বেশি মহিলা উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হলো অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভোটার তালিকায় নাম বাদ গেলেও যাঁরা অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেই মহিলারা এই প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা পাবেন। তবে উপভোক্তারা টাকা পেতে শুরু করলেও যদি কেউ কোনও উপভোক্তার যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগ করেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে।

    গত বিধানসভা ভোটের প্রচারে বিজেপি ঘোষণা করেছিল, সরকারে এলে ১৮-৬০ বছর বয়সি মহিলাদের অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। প্রাথমিক ভাবে ৩ জুন ২৭ লক্ষের কিছু বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে সেই ভাতার টাকা ট্রান্সফার করা হয়। কিন্তু পূর্বতন সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রাপকের সংখ্যা ছিল ২ কোটিরও বেশি। সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, ভুয়ো উপভোক্তা, ‘সার’ প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়া মহিলারা এই ভাতা পাবেন না। গত এক মাস ধরে আবেদনের পাশাপাশি নাম যাচাইয়ের কাজ চলছিল। এমন যোগ্য ১ কোটি ৯ লক্ষ ৫২ হাজার ৩৭৮ জন উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে এ দিন ডিরেক্ট বেনিফিশিয়ারি ট্রান্সফারের (ডিবিটি) মাধ্যমে ভাতা পাঠানোর আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। তার মধ্যে ২৬ লক্ষ আবেদনকারীর ফর্ম বাতিল করা হয়েছে। কারণ, তাঁরা এই সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তা হওয়ার মাপকাঠি পূরণ করেননি। ঝাড়াই–বাছাইয়ের পরে যে ১ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি মহিলা ‘যোগ্য’ বলে বিবেচিত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ১ কোটি ৯ লক্ষ ৯২ হাজার ৩৭৮ জনের অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে সরকার। যাঁরা বাকি রয়েছেন, তাঁদেরও অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরু করবে বলে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    তাঁর কথায়, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে আমরা সার্ভে করে দেখলাম, ভারতীয় নন বা ভোটার তালিকায় নাম নেই, এমন ২৭ লক্ষ মহিলার নাম রয়েছে। আমরা এঁদের নাম কেটেছি। কারণ, সরকারের টাকা ভারতীয় ছাড়া অন্য কেউ পেতে পারে না।’ বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, এই ২৭ লক্ষের মধ্যে অনেকেই মৃত, কেউ আবার এখানে থাকেন না। আবার এমনও অনেকে ছিলেন, যাঁদের ভোটার তালিকায় তিন জায়গায় নাম ছিল, অথবা ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তালিকায় ১০ লক্ষ পুরুষ প্রাপকেরও নাম ছিল।

    মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘যাঁরা শরণার্থী, ভারতের নাগরিকত্বের জন্য সিএএ-তে আবেদন করেছেন, যতদিন পর্যন্ত না তাঁদের আবেদন বাতিল হচ্ছে, তাঁরা ভাতার টাকা পাবেন।’ তাঁর সংযোজন, ‘আপনারা প্রশ্ন করতে পারেন, শরণার্থী মানেই তো হিন্দু। সরকার এ ক্ষেত্রে লোকধর্ম পালন করবে। আমি আশ্বস্ত করতে চাই যে, ভোটার তালিকায় নাম বাদ গেলেও যদি অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে থাকেন, তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁরাও ভাতার টাকা পাবেন। সরকার কোনও বিভাজন করবে না।’ বিভাজনের প্রশ্নে আগের সরকারকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, ‘আমরা দল ভাগাভাগি করি না। আজ আমি সব দলের মহিলা বিধায়ককে ডেকেছি। মঞ্চে সবাইকে জায়গা দিতে পারিনি, কিন্তু তাঁদের বসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করেছি।’

    নতুন সরকার অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য যে ১২ পাতার ফর্ম পূরণ করিয়েছিল, তা নিয়েও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, ‘সমালোচনা হয়েছে—১২ পাতার ফর্ম। আসলে চারটে পাতা ছাড়া পূরণ করার কিছু ছিল না।’ এ দিন মুখ্যসচিবও জানান, খুব শিগগিরই নারী ও শিশুকল্যাণ দপ্তরের তরফে একটি বিশেষ পোর্টাল চালু করা হবে। ওই পোর্টালে ঢুকেই সাধারণ মানুষ জানতে পারবেন, তাঁদের নির্দিষ্ট এলাকায় কারা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাচ্ছেন। যদি কেউ মনে করেন, তালিকায় এমন কারও নাম রয়েছে, যিনি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন, তা হলে ‘সার’-এর ধাঁচে তা নিয়েও সরাসরি আপত্তি জানানো যাবে। অভিযোগ করার ১৫-৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত করে অভিযোগের নিষ্পত্তি হবে।

  • Link to this news (এই সময়)