চিত্রদীপ চক্রবর্তী
চিকেনস নেক থেকে ১১২ কিলোমিটার দূরে এক সন্দেহভাজন আইসিস হ্যান্ডলারের খোঁজ মিলল সিকিমে। ধৃতের নাম মহম্মদ আরজু(১৯)। অভিযোগ, ধৃত যুবক সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের মতাদর্শ ছড়ানোর পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রাম ব্যবহার করে জঙ্গি সংগঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহ এবং নতুন রিক্রুটমেন্টের চেষ্টা করছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় এক মাস আগে অনলাইনে সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত কনটেন্ট প্রচার করার বিষয়ে আরজু সম্পর্কে দিল্লির গোয়েন্দারা তথ্য পান। তদন্তে নেমে পুলিশ ইনস্টাগ্রামে ‘গ্রুপ অফ ইসলামিক মেম্বার’ নামে একটি অ্যাকাউন্টের খোঁজ পায়। সিকিমের মতো শান্ত রাজ্যে এরকম জঙ্গি কার্যকলাপের খোঁজ পেয়ে একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম গঠন করা হয়। টানা নজরদারির পরে যে চ্যানেলের মাধ্যমে এই জিহাদ প্রচারের কাজ চলছিল সেই গ্রুপের ৬ জন সদস্যকে চিহ্নিত করে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করতেই আরজুর নাম উঠে আসে।
সিকিম পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আরজু তাঁর বাবার সঙ্গে গ্যাংটকে লোয়ার এমজি মার্গের কাছে একটি পানের দোকান চালাতেন। সেখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে লোক আসতেন। ওই ব্যবসার আড়ালে ১৯ বছরের যুবক আশেপাশের স্পর্শকাতর এলাকার খবরাখবর সংগ্রহ করতেন বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ। ধৃতের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, আইপ্যাড সমেত একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, আরজুর ইনস্টাগ্রাম, এক্স হ্যান্ডেল এবং টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে এমন কনটেন্ট পাওয়া গিয়েছে যেখানে সরাসরি ইসলামিক স্টেটের সমর্থনে বেশ কিছু পোস্ট শেয়ার করা হয়েছিল। এমনকী, কিছু চ্যাটে নির্দিষ্ট একটি পাকিস্তানি নম্বরের সঙ্গেও যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। সিকিম পুলিশের এক কর্তা বলেন,‘আরজুকে গ্রেপ্তার করার পরে তাঁর মোবাইলে ‘জিআইএম টুল’ এবং ‘জিআইএম টু ০.৩ এপিকে নামে দুটি ফাইল পাওয়া গিয়েছে। সেখানে জাল নোটের বিষয়ে পাকিস্তানের বেশ কয়েকজনের সঙ্গে চ্যাট করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, চ্যাটজিপির মাধ্যমেও জেহাদ সংক্রান্ত নানা তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।’
সিকিমে এই প্রথমবার কোনও জঙ্গি সংগঠনের হ্যান্ডলারের হদিশ মেলায় বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর শুরু করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের গোয়েন্দারাও। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, আলাদা আলাদা কাজের জন্য পৃথক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল। যেমন অর্থ সংগ্রহের জন্য ‘জিআইএম ২০১৪ গ্রুপ’, জাল নোটের কারবারের জন্য ‘ইসলামিক এসটিএ প্রাইভেট ইনস্টাগ্রাম গ্রুপ’ এবং নতুন যুবকদের রিক্রুট করার জন্য ‘টেররিস্ট রিপাবলিক অফ ইজরায়েল ইনস্টাগ্রাম গ্রুপ’ খোলা হয়েছিল।
এ রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরে ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে কেন্দ্র। তারই মধ্যে সিকিম থেকে সন্দেহভাজন হ্যান্ডলার গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগও বেড়েছে।