বিখ্যাত 'এই' গামছা শিল্পীরা আজ বড় সঙ্কটে, চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আগে চাপা সত্যিটা জানুন
News18 বাংলা | ০২ জুলাই ২০২৬
ঐতিহ্যবাহি মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া থানার তরতিপুরের গামছা। আগে হ্যাল্ডলুম থাকলেও আধুনিকতায় আজ তা পাওয়ারলুমে তৈরি হচ্ছে। এর জেরে এই গ্রামের মানুষ আজ অনেকেই বিশেষত মহিলারা কাজ হারিয়ে অসহায়। তর্তিপুর ও রেজলাপাড়া মূলত গামছা তৈরির জন্য এলাকা বিখ্যাত ছিল। যদিও হাতে বোনা গামছা এখন মেশিনে তৈরি করা হয়।
হরিহরপাড়ার তরতিপুর এবং রেজলাপাড়ার তাঁতশিল্পীরা জানিয়েছেন, তরতিপুর গামছা বুনে আগে একটা সময় তাদের লাভ হয়েছে। তারা বংশ পরম্পরায় তাঁতের শাড়ি বুনতেন। কিন্তু সেই শাড়ি বোনা থেকে বিরত হয়ে প্রায় পঁচিশ বছর আগে। ফলে তারা গামছা বুনতে আরম্ভ করেন। হস্তচালিত শিল্পে গামছা বুনেই চলে যাচ্ছিল ওই তাঁতিদের। তবে বর্তমান দিনে গামছা তৈরি করে বিশেষ লাভ করতে পারছিলেন না তাঁরা। গ্রামের ফরিদা বিবি থেকে কোহিনূর, খালেফা বিবি এই গামছা তৈরি করতেন। যদিও আজ সময়ের সঙ্গে তা অতীত। ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে হ্যান্ডলুম।
ফরিদা বিবি বলেন, এই এলাকায় আনসারীরা মূলত গামছা তৈরি করে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও স্ত্রী মিলে এই গামছা তৈরি করে সংসার চালায়। দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে সংসার। কাঁচা বাড়ি থাকায় ছেলে ও মেয়ের বিয়ে দিতে পারিনি। সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলে ঘরটা তৈরি করতে পারতাম। দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় প্রায় ১০০০ পরিবার এই গামছা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। আগে গ্রামে ঢুকলেই শোনা যেত ঠক ঠক শব্দ। বাগানে বসে হ্যান্ডলুমে তাঁত বুনতে দেখা যেত পুরুষ থেকে মহিলাদের।
তবে বর্তমানে হ্যান্ডলুমের জায়গা নিয়েছে পাওয়ার লুম। এর জেরে এখন আর আগের মতো হাতে বোনা হচ্ছে না গামছা। মেশিনে গামছা তৈরি হওয়ায় এখন কাজ হারিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। মহিলারা এখন বাড়ির কাজ করলেও অনেক পুরুষই রোজগারের আশায় পাড়ি দিয়েছেন ভিন রাজ্যে। এই গামছা দেশ বিদেশে বহু জায়গায় পাড়ি দেয়। তবে যেখানে এই গামছা তৈরি হয় সেই তরতিপুর কিন্তু আজও সবার সামনে আসেনি। এই গামছা বেলডাঙার গামছা হিসাবেই খ্যাতি লাভ করে চলেছে। এখানকার গামছা সর্বত্রই বেলডাঙার গামছা হিসেবে পরিচিত।