রাজনীতি করেন, মোটা চামড়া চাই! ট্রোল থেকে মুক্তি চেয়ে আদালতে গিয়েও ধাক্কা রাঘব চাড্ডার
প্রতিদিন | ০২ জুলাই ২০২৬
আপের পোস্টার বয় থেকে বিজেপি নেতা হয়েছেন। রাঘব চাড্ডার এহেন পরিবর্তন দেখে সোশাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন আমজনতা। রাঘবক কটাক্ষ করে তৈরি হয়েছে বহু মিম। সেসবের বিরোধিতা করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাজ্যসভা সাংসদ। কিন্তু দিল্লি হাই কোর্টে টিকল না তাঁর আর্জি। বিচারপতি সাফ জানালেন, রাজনীতিবিদদের সমালোচনা হতেই পারে। সেটাকে গ্রহণ করতে হবে।
দিল্লি হাই কোর্টে রাঘবের আবেদন ছিল, এআই এবং অন্যান্য প্রযুক্তি দিয়ে তাঁর ভুয়ো ভিডিও বানানো হচ্ছে। নেতিবাচকভাবে তাঁকে তুলে ধরা হচ্ছে সোশাল মিডিয়ায়। অন্তত ৫২টি পোস্টের তালিকাও তুলে ধরেন রাঘব। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কারণেই আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে-এই মর্মে অভিযোগ জানান আপের প্রাক্তন নেতা। মানহানির অভিযোগ তুলে তাঁর দাবি ছিল, এই পোস্টগুলি মোছার নির্দেশ দিক দিল্লি হাই কোর্ট।
কিন্তু সেই আবেদনে সাড়া দিল না উচ্চ আদালত। বিচারপতি সুব্রামণ্যম প্রসাদ বলেন, রাজনৈতিক দলবদল বা অবস্থান বদলের সঙ্গে একটা হাস্যরস জড়িয়ে থাকে। সেটা রাজনীতিরই অঙ্গ। অনেক সময় নির্দিষ্ট একজন রাজনীতিবিদের কাজকে হাতিয়ার করে কটাক্ষ হয়। সেটাকে সম্মানহানির সঙ্গে মিলিয়ে ফেললে চলবে না। নিজের সিদ্ধান্তের সমালোচন সহ্য করতে পারবেন না, এমন ‘পাতলা চামড়া’ থাকা উচিত নয়। যদিও আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে, কারোওর ক্ষতি করে এমন ভুয়ো ভিডিও বানানো সমর্থনযোগ্য নয়।
উল্লেখ্য, ‘আম আদমি’র ট্যাগ ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন রাঘব চাড্ডা। তাঁর সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন আম আদমি পার্টির আরও ৬ সাংসদ। সেই তালিকায় স্বাতী মালিওয়াল, হরভজন সিং, অশোক মিত্তল, সন্দীপ পাঠক, রাজিন্দর গুপ্তা, বিক্রম সাহানিও রয়েছেন। আম আদমি পার্টি ছাড়ার কারণ হিসেবে রাঘব চাড্ডা বলেছিলেন, “আমার ঘাম-রক্ত দিয়ে আপকে লালন করেছি, আমার যৌবনের ১৫টা বছর দিয়েছি। কিন্তু সেই আপ আদর্শচ্যুত হয়েছে।” বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই রাজ্যসভার গুরুত্বপূর্ণ কমিটির মাথায় বসানো হয় তাঁকে। সেই নিয়েও ট্রোলড হয়েছেন রাঘব।