সেবাশ্রয়ে অপরাধ হয়েছে। যা যা অভিযোগ উঠেছে তার যথাযথ তদন্ত হবে বলে এবার জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “অভিযোগ এসেছে। আমি দেখেছি। পুলিশ তদন্ত করবে। জেলাশাসক বা স্বাস্থ্য দপ্তরের যা হেল্প নেওয়ার নেবে। এটা অপরাধ। আর অপরাধ হলে তা দেখার জন্য যা করার করা হবে।”
বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনায় জোকায় ভারত সেবাশ্রমের হাসপাতালে নিউরো আইসিইউয়ের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই তিনি সেবাশ্রয় নিয়ে ওঠা অভিযোগের ব্যাপারে মুখ খোলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তিন মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল খান, সুমনা সরকার। ছিলেন জেলার বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)-ও। অভিজিৎবাবুই এদিন ‘সেবাশ্রয় প্রকল্পের নামে ডায়মন্ডহারবারের মানুষকে আদতে টুপি পরিয়েছেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়’ এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। বুধবার বিষ্ণুপুর থানায় অভিষেক, তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায় ও সুমিতের ঘনিষ্ঠ অয়ন ঘোষদস্তিদার-সহ সমস্ত সেবাশ্রয় শিবিরের উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্তির দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন ববি।
ববির অভিযোগ, “ডায়মন্ডহারবারবাসীর স্বাস্থ্য নিয়ে ছেলেখেলা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কত মানুষের ক্ষতি করে দিয়েছেন তদন্ত করলেই তা বোঝা যাবে। ‘সেবাশ্রয়’ থেকে স্থানান্তরিত হওয়া একজন সুস্থ মহিলার অপারেশনের নামে পা কেটে বাদ দেওয়াও হয়। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে ডায়মন্ডহারবার কেন্দ্রে অভিষেকের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিজেপি নেতা অভিজিতের অভিযোগ, “হোমিওপ্যাথির ও হাতুড়ে চিকিৎসকদের সাদা অ্যাপ্রন পরিয়ে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক সাজিয়ে আনা হয়েছিল শিবিরগুলিতে। রোগীদের যে সমস্ত প্রেসক্রিপশন করা হয়েছিল সেগুলি দেখলেই বোঝা যাবে এমন প্রেসক্রিপশন কোনও অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকের হতে পারে না।”
স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বতও জানান, “বিএএমএস, বিএইচএমএস পাঠরত হবু ডাক্তার ও হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়দের দিয়ে সেবাশ্রয় চালানো হয়েছে। এটা অন্যায়।” মন্ত্রীর কথায়, ভোটের আগে থেকেই এই নিয়ে সরব হয়েছি। মিথ্যে কথা আর চুরিচামারির কিংবদন্তি হয়ে গিয়েছেন
অভিষেক।