রোনাল্দো বনাম মদ্রিচ, দুই বন্ধুর টক্করে শেষ হাসি কার
এই সময় | ০২ জুলাই ২০২৬
সব্যসাচী সরকার, ডালাস
পুরোনো বন্ধু বলে কথা!
মাঝে মাঝেই লুকা মদ্রিচ তাঁর মোবাইলে আঙুল চালিয়ে ধরে নেন বন্ধুকে, পতুর্গিজে বলে ফেলেন, ‘কোমো এস্তা আ ভিদা ক্রিস্তিয়ানো?’ বাংলা করলে, ‘কেমন চলছে ক্রিস্তিয়ানো?’
প্রিয় বন্ধুর এই ফোনটা ধরতে ভুল হয় না ক্রিস্তিয়ানোর। একজন খেলেন সৌদি আরবের আল নাসেরে, অন্য জন ইতালির এসি মিলানে। তাতে কী? ফোনে প্রায়ই চলে দীর্ঘ আড্ডা।
জীবনের শেষ বিশ্বকাপে দু’জনে মুখোমুখি হতে চলেছেন ক্যানাডার টরন্টোয়, রাউন্ড অফ থার্টি টু-র নক আউটে। রোনাল্দোর জার্সিতে থাকবে পতুর্গালের ক্যাপ্টেনের আর্ম ব্যান্ড, মদ্রিচের জার্সিতে ক্রোয়েশিয়ার। এর আগে কোনওদিন বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়নি দুই দেশ। মাঠে দেখা হলে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরবেন, নিশ্চিত। দু’জনেই ফুটবলের কিংবদন্তি, দু’জনেই ৪১ পেরিয়েছেন, দু’জনকেই পৃথিবী ‘বুড়ো ঘোড়া’ ধরছে এবং দু’জনে এক সঙ্গে টানা ছ’বছর খেলেছেন রিয়াল মাদ্রিদে, জিতেছেন চার-চারটে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। এই বিশ্বকাপে রোনাল্দোর নামের পাশে দুটো গোল, মদ্রিচ আবার দেশের হয়ে ২০১ নম্বর ম্যাচে ঘানার বিরুদ্ধে করেছেন ভাইটাল অ্যাসিস্ট।
দুটো টিমই ইউরোপীয় ফুটবলের দুই হেভিওয়েট কোচ, পর্তুগালে রবের্তো মার্তিনেস, ক্রোয়েশিয়ায় জ্লাটকো ডালিচ। ধারে-ভারে মাতির্নেসের টিম সামান্য হলেও এগিয়ে, তার কারণ শুধু সিআর সেভেন নন। সেখানে টিমের আসল অস্ত্র ব্রুনো ফের্নান্দেস আর ভিতিনিয়া। এই দু’জন মিডল থার্ড নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করলে পর্তুগালের গোলের সম্ভাবনা তৈরি হবেই। কারণ, গ্রুপ পর্যায়ের প্রথম ম্যাচে হ্যারি কেনের ইংল্যান্ড এই ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ৪-২ গোলে জিতেছিল।
আবার উজ়বেকিস্তান ম্যাচে দুটো গোল এবং তাঁর বিখ্যাত ‘আই অ্যাম ব্যাক’ হুমকির পরে কলম্বিয়া ম্যাচে ফের ম্লান লেগেছে রোনাল্দোকে। যথারীতি শুরু হয়েছে ট্রোলিং। দাবি, মার্তির্নেসের সাহসই নেই রোনাল্দোকে বসানোর। ছ’টা বিশ্বকাপ খেলেও নক আউটে একটাও গোল নেই ক্রিস্তিয়ানোর, শেষ বিশ্বকাপে এসে এই স্ট্যাটিসটিক্স বদলে ফেলার এমন সুযোগ আর আসবে না। মেসি-এমবাপে-হাল্যান্ডরা কী করে দেখাচ্ছেন, দুনিয়া দেখছে। এই পরিস্থিতিতে ফের প্রত্যাশার আকাশচুম্বী চাপ নিয়ে নামতে হচ্ছে তাঁকে।
৪-২-৩-১ ছকে খেলার কথা পতুর্গালের। নুনো মেন্দেস বিশ্বের অন্যতম সেরা সাইড ব্যাক, অন্য দিকে থাকবেন কান্সেলো, সেন্ট্রাল ডিফেন্সে দিয়াস আর ভিয়েগা, ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে ভিতিনিয়া আর জোয়াও নেভেস। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে নেতো, ব্রুনো আর ফেলিক্স। স্ট্রাইকার রোনাল্দো। মিডফিল্ড থেকে কী ভাবে বল বক্সের মধ্যে রোনাল্দোর কাছে আসবে, ব্রুনোরা এই কাজটা কতটা ভালো ভাবে করতে পারবেন, তার উপরে পতুর্গালের শেষ ষোলোয় যাওয়া নির্ভর করছে। প্রাক্তন ইংল্যান্ড তারকা উজবেকিস্তান ম্যাচের আগে রোনাল্দোর ফর্মে ফেরা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করে মিলিয়ে দিয়েছিলেন। এ বারও তিনি বলছেন, ‘পেনাল্টি বক্সের মধ্যে কখন কী করতে হবে, রোনাল্দোর চেয়ে ভালো কে জানে? কিন্তু ওর কাছে ঠিক সময়ে বলটা যেতে হবে। সেটা দেখার দায়িত্ব ওর টিমমেটদের।’
ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ঐতিহ্য যথেষ্ট গৌরবের, ২০১৮ সালের ফাইনালিস্ট, কাতারে চার বছর আগে তৃতীয় স্থান। মিডফিল্ডে মদ্রিচের সঙ্গে কোভাসিচ আর সুচিচ, ডিফেন্সে গার্ডিওলের মতো বিশ্বসেরা নাম, ফরোয়ার্ডে বাতুরিনা, বুদিমির আর পেরিসিচ। তার উপরে বড় টিমের বিরুদ্ধে নিজেদের ‘এ’ গেম বের করে আনার সুনাম আছে। কাতারের কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ বের করে নিয়েছিলেন মদ্রিচরা।
বাজির দরে পর্তুগাল সামান্য এগিয়ে। কিন্তু তাতে কিছু এসে যায় না। দুই বন্ধুর টক্করে যে নার্ভ ধরে রেখে টিমকে লিড করবে, সেই শেষ ষোলোয় যাবে।